অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- আপডেট সময় ০১:৩২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / 27
দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী’ ও ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়া মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের বহুমুখী ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে কোমলমতি শিশুদের মধ্যে ডিজিটাল আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা কার্যত তাদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করার শামিল।
বিগত করোনা মহামারকালীন অনলাইন ক্লাসের নেতিবাচক প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’ এবং ইউনিসেফের প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, অনলাইন ক্লাসের ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি এবং ঝরে পড়ার হার ও শিশুশ্রম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে শিক্ষাখাতের সংস্কার যখন সবচেয়ে জরুরি, তখন পুনরায় অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই সুফল বয়ে আনবে না।
জামায়াত নেতা প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রের অন্য সব খাতের বিলাসিতা সচল রেখে কেন কেবল শিক্ষাখাতের ওপর জ্বালানি সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে। শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।
একই সাথে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

























