অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার আসক্তি: এক ধরনের মানসিক সমস্যা
- আপডেট সময় ০৭:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 22
প্রয়োজন নেই এমন জিনিস বারবার কেনা বা কেনাকাটার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং এটি একটি মানসিক সমস্যা। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কম্পালসিভ বায়িং ডিজঅর্ডার’। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা জানিয়েছেন, কেনাকাটা করার সময় মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক রাসায়নিক নিঃসরণের ফলে মানুষ সাময়িক আনন্দ পায়, যা ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়।
কেন হয় এই সমস্যা?
সাধারণত একাকিত্ব, মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা বা হতাশা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে মানুষ কেনাকাটার আশ্রয় নেয়। বর্তমান সময়ে অনলাইন শপিং এবং ক্রেডিট কার্ডের সহজলভ্যতা এই আসক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সংকট, পারিবারিক কলহ এবং তীব্র অপরাধবোধ তৈরি হয়।
এই সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ:
১। প্রয়োজন বা সামর্থ্য না থাকলেও বারবার কেনাকাটা করা।
২। মানসিক চাপ বা মন খারাপ কমাতে শপিংকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া।
৩। কেনাকাটার পরিমাণ বা খরচের কথা পরিবার ও বন্ধুদের কাছে গোপন করা।
৪। কেনাকাটার পর আনন্দ নয়, বরং লজ্জা বা অপরাধবোধ অনুভব করা।
৫। চাহিবার মাত্রই কেনার তীব্র ইচ্ছা দমন করতে বারবার ব্যর্থ হওয়া।
মুক্তির কার্যকর উপায়:
ডা. ফারজানা রহমান দিনা এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিয়েছেন:
৪৮ ঘণ্টার নিয়ম:
কোনো কিছু পছন্দ হলে তৎক্ষণাৎ না কিনে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এতে সাময়িক উত্তেজনা কমে যায় এবং প্রায়ই দেখা যায় সেই জিনিসের আর প্রয়োজন নেই।
বিকল্প ব্যবস্থা: মানসিক চাপে থাকলে শপিংয়ের বদলে ব্যায়াম করা, বই পড়া বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস করুন।
নগদ টাকা ব্যবহার:
ক্রেডিট কার্ড বা অনলাইন পেমেন্টের বদলে নগদ টাকা ব্যবহারের অভ্যাস করলে খরচের হিসাব রাখা সহজ হয় এবং কেনাকাটায় লাগাম পড়ে।
পূর্ব পরিকল্পনা:
বাজারে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা তৈরি করুন এবং তালিকার বাইরে কিছু না কেনার সংকল্প করুন।
বিশেষজ্ঞের সহায়তা: আসক্তি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে প্রফেশনাল থেরাপিস্ট বা মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি’ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সচেতনতা এবং অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসক্তি কাটিয়ে উঠতে নিজের প্রতি কঠোর না হয়ে বরং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি।


























