ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
উত্তর আমেরিকা ২৩ দেশের বৈচিত্র্য, শক্তি ও সংস্কৃতির মহাদেশ হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, পাসপোর্টযাত্রী পারাপার স্বাভাবিক কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ: শিবগঞ্জে শিক্ষামন্ত্রী ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন: বর্ষবরণ ও হালখাতার বিবর্তন ও প্রাসঙ্গিকতা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদে ফের আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, শুক্রবার শুরুর সম্ভাবনা পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, প্রাণ গেল কলেজছাত্রী দিয়ার ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা শোভাযাত্রার মোটিফ আটকে গেল মেট্রো ভবনে পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছেলেরা নীল মেয়েরা গোলাপি রং কেন?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 90

ছবি সংগৃহীত

 

আজকের দিনে আমরা ধরে নিই, মেয়ে মানেই গোলাপি আর ছেলে মানেই নীল। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই ধারণা সবসময় এমন ছিল না। বরং একসময় বিষয়টি ছিল ঠিক উল্টো।

উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সব শিশুকেই সাদা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরানো হতো। কারণ সাদা সুতি কাপড় পরিষ্কার করা সহজ ছিল। তখন পোশাকের রং দিয়ে লিঙ্গ আলাদা করার প্রবণতা ছিল না।

আরও পড়ুন  পোশাক খাতে গত আট মাসে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২৬.৭৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

১৮৮৪ সালের একটি ছবি এই ধারণাকে আরও পরিষ্কার করে। ছবিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ফ্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ছোটবেলায় সাদা স্কার্ট পরে আছেন। সে সময় ছেলেশিশুদের ৬ বা ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের মতো পোশাক পরানো ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। নির্দিষ্ট বয়সে প্যান্ট পরানো হতো, যাকে বলা হতো ‘ব্রিচিং’।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা রঙের ব্যবহার শুরু হয়। তবে তখনো নিয়মটা আজকের মতো ছিল না। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত এক বাণিজ্যিক পত্রিকায় বলা হয়েছিল, ছেলেদের জন্য গোলাপি আর মেয়েদের জন্য নীল বেশি উপযুক্ত। যুক্তি ছিল, গোলাপি লাল রঙের কাছাকাছি, যা শক্তি ও সাহসের প্রতীক। অন্যদিকে নীলকে ধরা হতো শান্ত ও কোমল রং হিসেবে।

১৯২৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় দোকান ছেলেদের জন্য গোলাপি পোশাকের পরামর্শ দিচ্ছিল। অর্থাৎ তখনো রঙের বিভাজন স্থির হয়নি।

গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিভাজন পাকাপোক্ত হতে শুরু করে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনধারা জোরদার হয়। ছেলে ও মেয়েদের পোশাক আলাদা করে দেখানোর প্রবণতা বাড়ে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের সময়েই নীল ছেলেদের আর গোলাপি মেয়েদের রং হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯৬০-এর দশকে নারীবাদী আন্দোলনের প্রভাবে আবার ইউনিসেক্স বা উভলিঙ্গ পোশাক জনপ্রিয় হয়। অনেকেই মনে করতেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের আলাদা করে সাজানো তাদের সীমাবদ্ধ করে। এমনকি ১৯৭০-এর দশকে কিছু বড় ক্যাটালগে শিশুদের পোশাকে গোলাপি রং প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

তবে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে আবার রঙের বিভাজন জোরালো হয়। প্রসবপূর্ব লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার প্রসার বড় ভূমিকা রাখে এতে। গর্ভাবস্থাতেই সন্তান ছেলে না মেয়ে জানা গেলে বাবা-মায়েরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট রঙের পোশাক ও সামগ্রী কিনতে শুরু করেন। ফলে বাজারও সেই অনুযায়ী পণ্য আলাদা করে তৈরি করতে থাকে।

এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই রঙের সঙ্গে লিঙ্গের এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন না। তাদের কাছে গোলাপি বা নীল যে কারও হতে পারে। ইতিহাস তাই বলে, রঙের এই বিভাজন প্রাকৃতিক নয়, বরং সময় ও সমাজের তৈরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ছেলেরা নীল মেয়েরা গোলাপি রং কেন?

আপডেট সময় ১১:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আজকের দিনে আমরা ধরে নিই, মেয়ে মানেই গোলাপি আর ছেলে মানেই নীল। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই ধারণা সবসময় এমন ছিল না। বরং একসময় বিষয়টি ছিল ঠিক উল্টো।

উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সব শিশুকেই সাদা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরানো হতো। কারণ সাদা সুতি কাপড় পরিষ্কার করা সহজ ছিল। তখন পোশাকের রং দিয়ে লিঙ্গ আলাদা করার প্রবণতা ছিল না।

আরও পড়ুন  পোশাক খাতে গত আট মাসে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২৬.৭৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

১৮৮৪ সালের একটি ছবি এই ধারণাকে আরও পরিষ্কার করে। ছবিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ফ্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ছোটবেলায় সাদা স্কার্ট পরে আছেন। সে সময় ছেলেশিশুদের ৬ বা ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের মতো পোশাক পরানো ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। নির্দিষ্ট বয়সে প্যান্ট পরানো হতো, যাকে বলা হতো ‘ব্রিচিং’।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা রঙের ব্যবহার শুরু হয়। তবে তখনো নিয়মটা আজকের মতো ছিল না। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত এক বাণিজ্যিক পত্রিকায় বলা হয়েছিল, ছেলেদের জন্য গোলাপি আর মেয়েদের জন্য নীল বেশি উপযুক্ত। যুক্তি ছিল, গোলাপি লাল রঙের কাছাকাছি, যা শক্তি ও সাহসের প্রতীক। অন্যদিকে নীলকে ধরা হতো শান্ত ও কোমল রং হিসেবে।

১৯২৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় দোকান ছেলেদের জন্য গোলাপি পোশাকের পরামর্শ দিচ্ছিল। অর্থাৎ তখনো রঙের বিভাজন স্থির হয়নি।

গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিভাজন পাকাপোক্ত হতে শুরু করে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনধারা জোরদার হয়। ছেলে ও মেয়েদের পোশাক আলাদা করে দেখানোর প্রবণতা বাড়ে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের সময়েই নীল ছেলেদের আর গোলাপি মেয়েদের রং হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯৬০-এর দশকে নারীবাদী আন্দোলনের প্রভাবে আবার ইউনিসেক্স বা উভলিঙ্গ পোশাক জনপ্রিয় হয়। অনেকেই মনে করতেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের আলাদা করে সাজানো তাদের সীমাবদ্ধ করে। এমনকি ১৯৭০-এর দশকে কিছু বড় ক্যাটালগে শিশুদের পোশাকে গোলাপি রং প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

তবে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে আবার রঙের বিভাজন জোরালো হয়। প্রসবপূর্ব লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার প্রসার বড় ভূমিকা রাখে এতে। গর্ভাবস্থাতেই সন্তান ছেলে না মেয়ে জানা গেলে বাবা-মায়েরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট রঙের পোশাক ও সামগ্রী কিনতে শুরু করেন। ফলে বাজারও সেই অনুযায়ী পণ্য আলাদা করে তৈরি করতে থাকে।

এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই রঙের সঙ্গে লিঙ্গের এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন না। তাদের কাছে গোলাপি বা নীল যে কারও হতে পারে। ইতিহাস তাই বলে, রঙের এই বিভাজন প্রাকৃতিক নয়, বরং সময় ও সমাজের তৈরি।