ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / 2

ছবি: সংগৃহীত

চলমান ইরান যুদ্ধ শুধু প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, বৈশ্বিক পরিবেশের জন্যও বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রথম ১৪ দিনেই প্রায় ৫০ লাখ টনের বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ বিশ্বের ৮৪টি ছোট দেশের সম্মিলিত বার্ষিক দূষণের চেয়েও বেশি। যুদ্ধবিমান, ড্রোন হামলা, জ্বালানি স্থাপনায় বিস্ফোরণ এবং অবকাঠামো ধ্বংস—সব মিলিয়ে এই বিপুল দূষণ তৈরি হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি ইন্সটিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক প্যাট্রিক বিগার বলেন, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাই পরিবেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এর প্রভাব থেকে কেউই নিরাপদ নয়।

আরও পড়ুন  স্টারলিংক নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে একটা মজার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকেই সবচেয়ে বেশি দূষণ

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়েছে ধ্বংস হওয়া ভবন থেকে। ইরান রেড ক্রিসেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের সিমেন্ট ও লোহা ধ্বংসের সময়ই প্রায় ২৪ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়েছে।

জ্বালানি ও সামরিক অভিযানের প্রভাব

যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও যানবাহনে বিপুল জ্বালানি ব্যবহৃত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২৭ কোটি লিটার জ্বালানি পুড়ে প্রায় ৫ লাখ টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

অন্যদিকে তেলের গুদাম ও স্থাপনায় হামলার কারণে ২.৫ থেকে ৫.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পুড়ে গেছে, যা থেকে প্রায় ১৮৮ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

‘কালো বৃষ্টি’ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইসরায়েলি হামলার পর রাজধানী তেহরান-এ দেখা যায় অস্বাভাবিক ‘কালো বৃষ্টি’। পরিবেশবিদরা জানান, তেলমিশ্রিত এই বৃষ্টি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং অ্যাসিডিক, যা মানুষের ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব

যুদ্ধের প্রথম ১৪ দিনে হাজার হাজার বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত হাজার হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ফ্রেড ওতু-লারবি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে এই নিঃসরণ আরও দ্রুত বাড়বে, বিশেষ করে তেল স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং জীবাশ্ম জ্বালানিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বড় ভূরাজনৈতিক সংকট—যার প্রভাব পড়ছে পুরো পৃথিবীর পরিবেশে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ

আপডেট সময় ১১:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

চলমান ইরান যুদ্ধ শুধু প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, বৈশ্বিক পরিবেশের জন্যও বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রথম ১৪ দিনেই প্রায় ৫০ লাখ টনের বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ বিশ্বের ৮৪টি ছোট দেশের সম্মিলিত বার্ষিক দূষণের চেয়েও বেশি। যুদ্ধবিমান, ড্রোন হামলা, জ্বালানি স্থাপনায় বিস্ফোরণ এবং অবকাঠামো ধ্বংস—সব মিলিয়ে এই বিপুল দূষণ তৈরি হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি ইন্সটিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক প্যাট্রিক বিগার বলেন, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাই পরিবেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এর প্রভাব থেকে কেউই নিরাপদ নয়।

আরও পড়ুন  শ্যাম্পুর চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হচ্ছে আফ্রিকান যুবকদের

ধ্বংসস্তূপ থেকেই সবচেয়ে বেশি দূষণ

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়েছে ধ্বংস হওয়া ভবন থেকে। ইরান রেড ক্রিসেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের সিমেন্ট ও লোহা ধ্বংসের সময়ই প্রায় ২৪ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়েছে।

জ্বালানি ও সামরিক অভিযানের প্রভাব

যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও যানবাহনে বিপুল জ্বালানি ব্যবহৃত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২৭ কোটি লিটার জ্বালানি পুড়ে প্রায় ৫ লাখ টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

অন্যদিকে তেলের গুদাম ও স্থাপনায় হামলার কারণে ২.৫ থেকে ৫.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পুড়ে গেছে, যা থেকে প্রায় ১৮৮ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

‘কালো বৃষ্টি’ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইসরায়েলি হামলার পর রাজধানী তেহরান-এ দেখা যায় অস্বাভাবিক ‘কালো বৃষ্টি’। পরিবেশবিদরা জানান, তেলমিশ্রিত এই বৃষ্টি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং অ্যাসিডিক, যা মানুষের ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব

যুদ্ধের প্রথম ১৪ দিনে হাজার হাজার বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত হাজার হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ফ্রেড ওতু-লারবি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে এই নিঃসরণ আরও দ্রুত বাড়বে, বিশেষ করে তেল স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং জীবাশ্ম জ্বালানিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বড় ভূরাজনৈতিক সংকট—যার প্রভাব পড়ছে পুরো পৃথিবীর পরিবেশে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান