ডার্ট মিশনের মাধ্যমে গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দিয়েছে নাসা
- আপডেট সময় ১১:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
- / 159
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে নাসা। ২০২২ সালে পৃথিবী রক্ষার মহড়া হিসেবে একটি গ্রহাণুর ওপর মহাকাশযান আছড়ে ফেলার যে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তার প্রভাব প্রাথমিক ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নাসার ‘ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট’ বা ডার্ট মিশনটি সফলভাবে গ্রহাণু ‘ডিমরফস’-এর গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
এটি ভবিষ্যতে পৃথিবীকে কোনো ধ্বংসাত্মক মহাজাগতিক বস্তুর হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করল।
ডার্ট মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল ‘কাইনেটিক ইমপ্যাক্টর’ পদ্ধতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশযানের ধাক্কার ফলে ডিমরফস থেকে যে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছিটকে বেরিয়েছে, তা গ্রহাণুটিকে পেছনের দিকে একটি বাড়তি ধাক্কা বা ‘থ্রাস্ট’ দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা একে ‘মোমেন্টাম এনহ্যান্সমেন্ট ফ্যাক্টর’ বলছেন, যার ফলে ধাক্কার শক্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।
এর প্রভাবে বড় গ্রহাণু ডিডাইমোসকে কেন্দ্র করে ডিমরফোসের ১২ ঘণ্টার কক্ষপথের সময়কাল ৩৩ মিনিট কমে গেছে। এমনকি পুরো সিস্টেমটির সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার গতিও প্রতি ঘণ্টায় ১.৭ ইঞ্চি পরিমাণ পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও এই পরিবর্তনটি আপাতদৃষ্টিতে সামান্য, তবে দীর্ঘ মেয়াদে এটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনো বিশাল গ্রহাণুকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নাসা এখন পরবর্তী প্রজন্মের টেলিস্কোপ তৈরির কাজ করছে, যা মহাকাশের দুর্ভেদ্য অন্ধকার গ্রহাণুগুলো খুঁজে বের করতে সহায়তা করবে।


























