একসঙ্গে ১০ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া
- আপডেট সময় ০৩:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
- / 7
উত্তর কোরিয়া আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এবার পূর্ব সাগরের দিকে একসঙ্গে ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সুনান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে এইগুলো নিক্ষেপ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সুনান এলাকা থেকে পূর্ব সাগর (জাপান সাগর) অভিমুখে প্রায় ১০টি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা শনাক্ত করেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটল। কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি প্রচেষ্টাকে তারা ‘অদক্ষ ও প্রতারণামূলক প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক হওয়া ‘ভালো’ হবে।
ওয়াশিংটন বহু দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বিভিন্ন শীর্ষ বৈঠক, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও এ প্রচেষ্টার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। চলতি বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠকের কথাও আলোচনায় রয়েছে। মার্চের শেষ দিকে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় এমন একটি বৈঠক হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে জানিয়েছেন কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক হওয়া “ভালো” হবে এবং ট্রাম্পের মার্চের শেষ দিকে শুরু হওয়া বেইজিং সফরের সময় সেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর আগে গত অক্টোবরে এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে “শতভাগ প্রস্তুত”। তবে সে সময় উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ মন্তব্যের কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ সময় এসব প্রস্তাব উপেক্ষা করার পর সম্প্রতি কিম জং উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক রাষ্ট্রের মর্যাদা মেনে নেয়, তাহলে দুই দেশ ‘ভালোভাবে চলতে পারে’।
গত মাসে কিম জং উন আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আর কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন নেই এবং তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে স্থায়ীভাবে সহজাত জাতির তালিকা থেকে বাদ দেবে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে তাদের বার্ষিক বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া ফ্রিডম শিল্ড শুরু করেছে, যেখানে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছে। মহড়াটি ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য আক্রমণের মহড়া হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। ১৯৫০ সালে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রমণের মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ শুরু করেছিল উত্তর কোরিয়া।
এ সপ্তাহের শুরুতে কিম জং উনের বোন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেন, এই যৌথ সামরিক মহড়া ‘অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এমন এক সময় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ‘উদ্ধত আন্তর্জাতিক দুষ্কৃতিকারীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণ’।
এদিকে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলাকে “অবৈধ আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুষ্কৃতিকারী চরিত্রের’ প্রমাণ।























