ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

পুরান ঢাকায় বার্ন ইউনিটের নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / 186

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকা থেকে নাহিদা আক্তার ওরফে ববি (২৯) নামের এক নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ করা হলেও ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাউছার জানান, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে একটি ফোনকল আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত চাঁনখারপুল এলাকার একটি ভবনের ছয়তলায় নাহিদার ভাড়া বাসায় যায়।

আরও পড়ুন  এজলাস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে রাতেই, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পুলিশ জানায়, বাসার দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দেওয়া ছিল এবং ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা।
শোবার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নাহিদার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দিবাগত রাত প্রায় পৌনে দুইটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁনখারপুলের ওই বাসায় নাহিদা তাঁর স্বামী ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে বসবাস করতেন। ইলিয়াস পেশায় একজন ব্যবসায়ী। নাহিদার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এর আগে নাহিদার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল এবং সেই সংসারে তাঁর একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে বিচ্ছেদের পর ইলিয়াসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

নিহতের ফুফাতো ভাই ফরহাদ রহমানের দাবি, নাহিদা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তাঁর অভিযোগ, নাহিদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে নাহিদা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। এজাহারে উল্লেখ আছে, ওই মামলায় ইলিয়াস গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন। পরে কারামুক্ত হওয়ার পর দুজনের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয় বলে জানা যায়।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে নাহিদা একটি চিরকুট লিখে গেছেন, যেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ইলিয়াস হোসেন বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পুরান ঢাকায় বার্ন ইউনিটের নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০২:৩৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকা থেকে নাহিদা আক্তার ওরফে ববি (২৯) নামের এক নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ করা হলেও ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাউছার জানান, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে একটি ফোনকল আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত চাঁনখারপুল এলাকার একটি ভবনের ছয়তলায় নাহিদার ভাড়া বাসায় যায়।

আরও পড়ুন  এজলাস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে রাতেই, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পুলিশ জানায়, বাসার দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দেওয়া ছিল এবং ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা।
শোবার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নাহিদার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দিবাগত রাত প্রায় পৌনে দুইটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁনখারপুলের ওই বাসায় নাহিদা তাঁর স্বামী ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে বসবাস করতেন। ইলিয়াস পেশায় একজন ব্যবসায়ী। নাহিদার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এর আগে নাহিদার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল এবং সেই সংসারে তাঁর একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে বিচ্ছেদের পর ইলিয়াসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

নিহতের ফুফাতো ভাই ফরহাদ রহমানের দাবি, নাহিদা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তাঁর অভিযোগ, নাহিদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে নাহিদা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। এজাহারে উল্লেখ আছে, ওই মামলায় ইলিয়াস গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন। পরে কারামুক্ত হওয়ার পর দুজনের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয় বলে জানা যায়।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে নাহিদা একটি চিরকুট লিখে গেছেন, যেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ইলিয়াস হোসেন বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।