ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাকিব ফিরলে দলের কম্বিনেশন ভালো হয়: শান্ত চিলি: আন্দেস থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত এক দীর্ঘ দেশ সরকারি কর্মচারীদের সকালে ৪০ মিনিট ডেস্কে থাকা বাধ্যতামূলক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রাণ গেল ফায়ার সার্ভিস সদস্যের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ ও ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ সেলের অগ্রগতি পর্যালোচনা আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা থেকে চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে অভিযান চালানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি: সীমান্ত বন্ধে দিশেহারা ২০ লাখ মানুষ দুবাইয়ে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে ইউএস-বাংলার বিশেষ ফ্লাইট কর্পোরেট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মহাবিশ্বের দানবীয় নক্ষত্রের নাটকীয় পরিবর্তন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশের কিছু তারা জন্ম থেকেই অস্বাভাবিক তেজ আর বিশাল আকার নিয়ে আসে। এরা সাধারণ তারার চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল, বড় এবং তুলনামূলক দ্রুত জীবন শেষ করে। এমনই এক দানবীয় তারার আচরণে সাম্প্রতিক সময়ে নাটকীয় পরিবর্তন দেখেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘WOH G64’ নামের এ তারাটি ভরের দিক থেকে সূর্যের প্রায় ২৮ গুণ। এটি আমাদের ছায়াপথ Milky Way–এর পার্শ্ববর্তী উপগ্রহ গ্যালাক্সি Large Magellanic Cloud–এ অবস্থিত।

গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তারাটি এমন আচরণ করছে যা আগে কোনো তারার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। ২০১৪ সালে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন, তারাটির রঙে পরিবর্তন আসছে। লাল আভা থেকে এটি ধীরে ধীরে হলুদে রূপ নিচ্ছে। আগে একে ‘এক্সট্রিম রেড সুপারজায়ান্ট’ হিসেবে ধরা হলেও এখন এটি ‘ইয়েলো হাইপারজায়ান্ট’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে মহাবিশ্বের নিখোঁজ পদার্থ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

সাধারণত কোনো তারার বিবর্তনে শত কোটি বছর সময় লাগে। কিন্তু মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে ডব্লিউওএইচ জি৬৪–এর এই পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটেছে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এতে বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত বা বিস্ফোরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন এথেন্সের National Observatory of Athens–এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী গঞ্জালো মুনিওজ সানচেজ। তার ভাষায়, মানুষের আয়ুষ্কালের মধ্যে সাধারণত আমরা তারার কেবল আকস্মিক ও সহিংস ঘটনাই দেখতে পাই, যেমন সুপারনোভা বিস্ফোরণ বা দুটি তারার মিলন। কিন্তু এ ধরনের ধীর, নাটকীয় রূপান্তর সচরাচর চোখে পড়ে না।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Nature Astronomy–তে। গবেষকদের মতে, প্রচলিত কোনো তারার মডেলই এখন পর্যন্ত এই রূপান্তর পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারছে না।

উজ্জ্বলতার দিক থেকে তারাটি সূর্যের চেয়ে প্রায় তিন লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল। ব্যাস এত বড় যে, এটি যদি সূর্যের জায়গায় থাকত, তবে এর বিস্তৃতি বৃহস্পতি ও শনির কক্ষপথের মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছাত। আলোর গতিতে চললেও তারার পৃষ্ঠ একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা লাগত।

প্রায় এক কোটি বছর বয়সী এই তারা এখন আয়ুষ্কালের শেষ পর্যায়ে। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার আলোকবর্ষ। তুলনায় আমাদের সূর্যের বয়স প্রায় সাড়ে চারশ কোটি বছর এবং এর সামনে আরও দীর্ঘ সময় পড়ে আছে।

ডব্লিউওএইচ জি৬৪–এর ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সূর্যের চেয়ে ৮ থেকে ২৩ গুণ বেশি ভরের তারা সাধারণত লাল অতিদানব পর্যায় শেষে সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়। তবে ২৩ থেকে ৩০ গুণ ভরের তারার ক্ষেত্রে ফলাফল নিশ্চিত নয়। তারা সুপারনোভা হবে, নাকি সরাসরি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে, তা এখনও গবেষণার বিষয়।

আরও একটি জটিলতা হলো, ডব্লিউওএইচ জি৬৪ একটি ‘বাইনারি সিস্টেম’ বা যুগ্ম তারা ব্যবস্থার অংশ। অর্থাৎ এটি মহাকর্ষীয় টানে আরেকটি তারার সঙ্গে যুক্ত। সেই সঙ্গী তারার প্রকৃতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ভবিষ্যতে দুটি তারা একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, অতীতে কোনো তীব্র অভ্যন্তরীণ আলোড়নের কারণে তারাটি লাল হয়েছিল এবং এখন আবার অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল হলুদ অবস্থায় ফিরছে। আবার সঙ্গী তারার প্রভাবেও এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন এই বিরল তারা ব্যবস্থার ওপর নজর রাখছেন। তাদের আশা, এই তারার আচরণ বিশালাকার তারাদের জীবনচক্র সম্পর্কে আমাদের ধারণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মহাবিশ্বের দানবীয় নক্ষত্রের নাটকীয় পরিবর্তন

আপডেট সময় ০৩:৩৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মহাকাশের কিছু তারা জন্ম থেকেই অস্বাভাবিক তেজ আর বিশাল আকার নিয়ে আসে। এরা সাধারণ তারার চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল, বড় এবং তুলনামূলক দ্রুত জীবন শেষ করে। এমনই এক দানবীয় তারার আচরণে সাম্প্রতিক সময়ে নাটকীয় পরিবর্তন দেখেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘WOH G64’ নামের এ তারাটি ভরের দিক থেকে সূর্যের প্রায় ২৮ গুণ। এটি আমাদের ছায়াপথ Milky Way–এর পার্শ্ববর্তী উপগ্রহ গ্যালাক্সি Large Magellanic Cloud–এ অবস্থিত।

গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তারাটি এমন আচরণ করছে যা আগে কোনো তারার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। ২০১৪ সালে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন, তারাটির রঙে পরিবর্তন আসছে। লাল আভা থেকে এটি ধীরে ধীরে হলুদে রূপ নিচ্ছে। আগে একে ‘এক্সট্রিম রেড সুপারজায়ান্ট’ হিসেবে ধরা হলেও এখন এটি ‘ইয়েলো হাইপারজায়ান্ট’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নাটকীয় পরিস্থিতির আড়ালে বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা আব্বাস

সাধারণত কোনো তারার বিবর্তনে শত কোটি বছর সময় লাগে। কিন্তু মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে ডব্লিউওএইচ জি৬৪–এর এই পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটেছে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এতে বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত বা বিস্ফোরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন এথেন্সের National Observatory of Athens–এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী গঞ্জালো মুনিওজ সানচেজ। তার ভাষায়, মানুষের আয়ুষ্কালের মধ্যে সাধারণত আমরা তারার কেবল আকস্মিক ও সহিংস ঘটনাই দেখতে পাই, যেমন সুপারনোভা বিস্ফোরণ বা দুটি তারার মিলন। কিন্তু এ ধরনের ধীর, নাটকীয় রূপান্তর সচরাচর চোখে পড়ে না।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Nature Astronomy–তে। গবেষকদের মতে, প্রচলিত কোনো তারার মডেলই এখন পর্যন্ত এই রূপান্তর পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারছে না।

উজ্জ্বলতার দিক থেকে তারাটি সূর্যের চেয়ে প্রায় তিন লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল। ব্যাস এত বড় যে, এটি যদি সূর্যের জায়গায় থাকত, তবে এর বিস্তৃতি বৃহস্পতি ও শনির কক্ষপথের মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছাত। আলোর গতিতে চললেও তারার পৃষ্ঠ একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা লাগত।

প্রায় এক কোটি বছর বয়সী এই তারা এখন আয়ুষ্কালের শেষ পর্যায়ে। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার আলোকবর্ষ। তুলনায় আমাদের সূর্যের বয়স প্রায় সাড়ে চারশ কোটি বছর এবং এর সামনে আরও দীর্ঘ সময় পড়ে আছে।

ডব্লিউওএইচ জি৬৪–এর ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সূর্যের চেয়ে ৮ থেকে ২৩ গুণ বেশি ভরের তারা সাধারণত লাল অতিদানব পর্যায় শেষে সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়। তবে ২৩ থেকে ৩০ গুণ ভরের তারার ক্ষেত্রে ফলাফল নিশ্চিত নয়। তারা সুপারনোভা হবে, নাকি সরাসরি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে, তা এখনও গবেষণার বিষয়।

আরও একটি জটিলতা হলো, ডব্লিউওএইচ জি৬৪ একটি ‘বাইনারি সিস্টেম’ বা যুগ্ম তারা ব্যবস্থার অংশ। অর্থাৎ এটি মহাকর্ষীয় টানে আরেকটি তারার সঙ্গে যুক্ত। সেই সঙ্গী তারার প্রকৃতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ভবিষ্যতে দুটি তারা একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, অতীতে কোনো তীব্র অভ্যন্তরীণ আলোড়নের কারণে তারাটি লাল হয়েছিল এবং এখন আবার অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল হলুদ অবস্থায় ফিরছে। আবার সঙ্গী তারার প্রভাবেও এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন এই বিরল তারা ব্যবস্থার ওপর নজর রাখছেন। তাদের আশা, এই তারার আচরণ বিশালাকার তারাদের জীবনচক্র সম্পর্কে আমাদের ধারণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।