ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ছেলেরা নীল মেয়েরা গোলাপি রং কেন?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 265

ছবি সংগৃহীত

 

আজকের দিনে আমরা ধরে নিই, মেয়ে মানেই গোলাপি আর ছেলে মানেই নীল। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই ধারণা সবসময় এমন ছিল না। বরং একসময় বিষয়টি ছিল ঠিক উল্টো।

উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সব শিশুকেই সাদা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরানো হতো। কারণ সাদা সুতি কাপড় পরিষ্কার করা সহজ ছিল। তখন পোশাকের রং দিয়ে লিঙ্গ আলাদা করার প্রবণতা ছিল না।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে উল্লখযোগ্য প্রবৃদ্ধি, অগ্রসর অন্যান্য খাতও

১৮৮৪ সালের একটি ছবি এই ধারণাকে আরও পরিষ্কার করে। ছবিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ফ্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ছোটবেলায় সাদা স্কার্ট পরে আছেন। সে সময় ছেলেশিশুদের ৬ বা ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের মতো পোশাক পরানো ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। নির্দিষ্ট বয়সে প্যান্ট পরানো হতো, যাকে বলা হতো ‘ব্রিচিং’।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা রঙের ব্যবহার শুরু হয়। তবে তখনো নিয়মটা আজকের মতো ছিল না। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত এক বাণিজ্যিক পত্রিকায় বলা হয়েছিল, ছেলেদের জন্য গোলাপি আর মেয়েদের জন্য নীল বেশি উপযুক্ত। যুক্তি ছিল, গোলাপি লাল রঙের কাছাকাছি, যা শক্তি ও সাহসের প্রতীক। অন্যদিকে নীলকে ধরা হতো শান্ত ও কোমল রং হিসেবে।

১৯২৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় দোকান ছেলেদের জন্য গোলাপি পোশাকের পরামর্শ দিচ্ছিল। অর্থাৎ তখনো রঙের বিভাজন স্থির হয়নি।

গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিভাজন পাকাপোক্ত হতে শুরু করে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনধারা জোরদার হয়। ছেলে ও মেয়েদের পোশাক আলাদা করে দেখানোর প্রবণতা বাড়ে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের সময়েই নীল ছেলেদের আর গোলাপি মেয়েদের রং হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯৬০-এর দশকে নারীবাদী আন্দোলনের প্রভাবে আবার ইউনিসেক্স বা উভলিঙ্গ পোশাক জনপ্রিয় হয়। অনেকেই মনে করতেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের আলাদা করে সাজানো তাদের সীমাবদ্ধ করে। এমনকি ১৯৭০-এর দশকে কিছু বড় ক্যাটালগে শিশুদের পোশাকে গোলাপি রং প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

তবে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে আবার রঙের বিভাজন জোরালো হয়। প্রসবপূর্ব লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার প্রসার বড় ভূমিকা রাখে এতে। গর্ভাবস্থাতেই সন্তান ছেলে না মেয়ে জানা গেলে বাবা-মায়েরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট রঙের পোশাক ও সামগ্রী কিনতে শুরু করেন। ফলে বাজারও সেই অনুযায়ী পণ্য আলাদা করে তৈরি করতে থাকে।

এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই রঙের সঙ্গে লিঙ্গের এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন না। তাদের কাছে গোলাপি বা নীল যে কারও হতে পারে। ইতিহাস তাই বলে, রঙের এই বিভাজন প্রাকৃতিক নয়, বরং সময় ও সমাজের তৈরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ছেলেরা নীল মেয়েরা গোলাপি রং কেন?

আপডেট সময় ১১:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আজকের দিনে আমরা ধরে নিই, মেয়ে মানেই গোলাপি আর ছেলে মানেই নীল। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই ধারণা সবসময় এমন ছিল না। বরং একসময় বিষয়টি ছিল ঠিক উল্টো।

উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সব শিশুকেই সাদা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরানো হতো। কারণ সাদা সুতি কাপড় পরিষ্কার করা সহজ ছিল। তখন পোশাকের রং দিয়ে লিঙ্গ আলাদা করার প্রবণতা ছিল না।

আরও পড়ুন  জুলাই থেকে শিক্ষার্থীদের মিলবে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও পোশাক

১৮৮৪ সালের একটি ছবি এই ধারণাকে আরও পরিষ্কার করে। ছবিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ফ্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ছোটবেলায় সাদা স্কার্ট পরে আছেন। সে সময় ছেলেশিশুদের ৬ বা ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের মতো পোশাক পরানো ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। নির্দিষ্ট বয়সে প্যান্ট পরানো হতো, যাকে বলা হতো ‘ব্রিচিং’।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা রঙের ব্যবহার শুরু হয়। তবে তখনো নিয়মটা আজকের মতো ছিল না। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত এক বাণিজ্যিক পত্রিকায় বলা হয়েছিল, ছেলেদের জন্য গোলাপি আর মেয়েদের জন্য নীল বেশি উপযুক্ত। যুক্তি ছিল, গোলাপি লাল রঙের কাছাকাছি, যা শক্তি ও সাহসের প্রতীক। অন্যদিকে নীলকে ধরা হতো শান্ত ও কোমল রং হিসেবে।

১৯২৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় দোকান ছেলেদের জন্য গোলাপি পোশাকের পরামর্শ দিচ্ছিল। অর্থাৎ তখনো রঙের বিভাজন স্থির হয়নি।

গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিভাজন পাকাপোক্ত হতে শুরু করে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনধারা জোরদার হয়। ছেলে ও মেয়েদের পোশাক আলাদা করে দেখানোর প্রবণতা বাড়ে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের সময়েই নীল ছেলেদের আর গোলাপি মেয়েদের রং হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯৬০-এর দশকে নারীবাদী আন্দোলনের প্রভাবে আবার ইউনিসেক্স বা উভলিঙ্গ পোশাক জনপ্রিয় হয়। অনেকেই মনে করতেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের আলাদা করে সাজানো তাদের সীমাবদ্ধ করে। এমনকি ১৯৭০-এর দশকে কিছু বড় ক্যাটালগে শিশুদের পোশাকে গোলাপি রং প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

তবে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে আবার রঙের বিভাজন জোরালো হয়। প্রসবপূর্ব লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার প্রসার বড় ভূমিকা রাখে এতে। গর্ভাবস্থাতেই সন্তান ছেলে না মেয়ে জানা গেলে বাবা-মায়েরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট রঙের পোশাক ও সামগ্রী কিনতে শুরু করেন। ফলে বাজারও সেই অনুযায়ী পণ্য আলাদা করে তৈরি করতে থাকে।

এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই রঙের সঙ্গে লিঙ্গের এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন না। তাদের কাছে গোলাপি বা নীল যে কারও হতে পারে। ইতিহাস তাই বলে, রঙের এই বিভাজন প্রাকৃতিক নয়, বরং সময় ও সমাজের তৈরি।