ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত; সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস দিল্লিতে জয়শঙ্কর-খলিলুর বৈঠক: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা আল্লু অর্জুনের বাড়ির সামনে তুলকালাম, ভিড় সামলাতে পুলিশের লাঠিচার্জ রাজশাহী মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান সুরক্ষিত সকল প্রাণ আগামীকাল থেকে ৪ দিন ইন্টারনেটে ধীরগতির শঙ্কা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ঘোষণা বিএসসিপিএলসির ‘বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’: সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ মা হারালেন অভিনেত্রী জেরিন খান সেন্ট কিটস ও নেভিস ছোট দ্বীপ, বড় সৌন্দর্য শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ মনে করে বর্তমান সরকার

মানসম্মত শিক্ষা ও ভাষাচর্চায় গুরুত্ব: গণমাধ্যমের ভাষা বিকৃত নিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর উদ্বেগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 61

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ভাষা ও গণিতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, কারিকুলাম, শ্রেণিকক্ষ ও ধারাবাহিকতার মধ্যে সমন্বয় আনতে পারলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধারার মধ্যে মৌলিক জ্ঞানের সমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়াম বা বাংলা মিডিয়াম—শিক্ষার্থী যে মাধ্যমেই পড়ুক না কেন, ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত সবার পাঠদানের গুণগত মান যেন অভিন্ন থাকে। এছাড়া প্রকৌশল বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো কারিগরি বিষয়ের সব শব্দের অনুবাদ সম্ভব না হলেও পরিভাষা ব্যবহারে শৃঙ্খলা আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ভাষার সঠিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমে প্রায়ই ভাষাকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। বানান এবং ব্যাকরণ চর্চায় অবহেলা বাড়ছে যা উদ্বেগের বিষয়। তিনি মনে করেন, ভাষাকে সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক করা গেলেও তার মূল রূপ বিকৃত করা মোটেও উচিত নয়।

আরও পড়ুন  মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কাল: প্রতি আসনে ২৫ জনের প্রতিযোগিতা

প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষে থাকা বাকি ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষক সংকট ও পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে ঘাটতি দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া ধাপে ধাপে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আগে বাংলা ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের ভিত্তি শক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

শিক্ষা খাতে দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময় বিভিন্ন দপ্তরে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি গড়ে উঠেছিল, তা নির্মূলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো দপ্তরে দুর্নীতির ছায়া থাকবে না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ব্যক্তিগত সম্পদের পরিবর্তে দেশ ও মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মানসম্মত শিক্ষা ও ভাষাচর্চায় গুরুত্ব: গণমাধ্যমের ভাষা বিকৃত নিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৩:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ভাষা ও গণিতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, কারিকুলাম, শ্রেণিকক্ষ ও ধারাবাহিকতার মধ্যে সমন্বয় আনতে পারলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধারার মধ্যে মৌলিক জ্ঞানের সমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়াম বা বাংলা মিডিয়াম—শিক্ষার্থী যে মাধ্যমেই পড়ুক না কেন, ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত সবার পাঠদানের গুণগত মান যেন অভিন্ন থাকে। এছাড়া প্রকৌশল বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো কারিগরি বিষয়ের সব শব্দের অনুবাদ সম্ভব না হলেও পরিভাষা ব্যবহারে শৃঙ্খলা আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ভাষার সঠিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমে প্রায়ই ভাষাকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। বানান এবং ব্যাকরণ চর্চায় অবহেলা বাড়ছে যা উদ্বেগের বিষয়। তিনি মনে করেন, ভাষাকে সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক করা গেলেও তার মূল রূপ বিকৃত করা মোটেও উচিত নয়।

আরও পড়ুন  দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষে থাকা বাকি ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষক সংকট ও পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে ঘাটতি দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া ধাপে ধাপে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আগে বাংলা ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের ভিত্তি শক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

শিক্ষা খাতে দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময় বিভিন্ন দপ্তরে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি গড়ে উঠেছিল, তা নির্মূলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো দপ্তরে দুর্নীতির ছায়া থাকবে না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ব্যক্তিগত সম্পদের পরিবর্তে দেশ ও মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।