০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কারাগারে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একসঙ্গে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 66

ছবি: সংগৃহীত

 

কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেন, আধুনিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরস্পরের পরিপূরক।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে কারা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কারাগারে বন্দিদের মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। বন্দিদের সংশোধনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই কারা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পুনর্বাসনে কারা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে প্রশিক্ষিত, মানবিক ও দায়িত্বশীল কারারক্ষীদের কোনো বিকল্প নেই।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয় এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে শুধু আইন ভঙ্গ করে না, রাষ্ট্রের ভিত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি আরও বলেন, কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই জনকল্যাণই তাদের একমাত্র দায়িত্ব হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সেরা মহিলা কারারক্ষীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত ও প্রদর্শনী পরিবেশন করেন।

৬৩তম ব্যাচের ফলাফলে ড্রিলে প্রথম হয়েছেন লিজা খাতুন, পিটিতে প্রথম হয়েছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন আর্মড কম্ব্যাটে প্রথম হয়েছেন জুথি পারভীন এবং ফায়ারিংয়ে প্রথম হয়েছেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

কারাগারে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একসঙ্গে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৪:০৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেন, আধুনিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরস্পরের পরিপূরক।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে কারা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কারাগারে বন্দিদের মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। বন্দিদের সংশোধনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই কারা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পুনর্বাসনে কারা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে প্রশিক্ষিত, মানবিক ও দায়িত্বশীল কারারক্ষীদের কোনো বিকল্প নেই।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয় এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে শুধু আইন ভঙ্গ করে না, রাষ্ট্রের ভিত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি আরও বলেন, কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই জনকল্যাণই তাদের একমাত্র দায়িত্ব হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সেরা মহিলা কারারক্ষীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত ও প্রদর্শনী পরিবেশন করেন।

৬৩তম ব্যাচের ফলাফলে ড্রিলে প্রথম হয়েছেন লিজা খাতুন, পিটিতে প্রথম হয়েছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন আর্মড কম্ব্যাটে প্রথম হয়েছেন জুথি পারভীন এবং ফায়ারিংয়ে প্রথম হয়েছেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।