দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনে বৈধ ২৩ প্রার্থী, বাদ ৩ জন
- আপডেট সময় ০১:৪০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 213
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেই ২৩ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানি শেষে তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এদের মধ্যে সর্বাধিক ১৫ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ৩ জন, কানাডার ২ জন এবং তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া ও ফিনল্যান্ডের ১ জন করে নাগরিকত্ব ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানি শেষে ইসি এই সিদ্ধান্ত নেয়। একই শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
নাগরিকত্ব ত্যাগকারী প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১ জন এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ইসি জানিয়েছে, যাঁরা নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন, পাসপোর্ট জমা ও প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধসহ প্রক্রিয়া সম্পন্নের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ২৯ ডিসেম্বরের আগে এসব নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের মনোনয়ন বৈধ ধরা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হলফনামাও নেওয়া হয়েছে। তবে দেশভেদে নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান ভিন্ন হওয়ায় শুধু আবেদন করলেই নাগরিকত্ব বাতিল হয় না বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া সতর্ক করে বলেন, কেবল আবেদনকে ভিত্তি করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক অতিরিক্ত নির্বাচন কমিশন সচিব জেসমিন টুলি ইসির সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও আরপিও অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থিতা অযোগ্য হলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে নাগরিকত্ব ত্যাগের পর প্রার্থিতার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, একই নীতিতে সবার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখেই এই অবস্থান।
এদিকে হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপির এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।


























