বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো বাংলাদেশের যুবারা
- আপডেট সময় ১১:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 40
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নাটকীয়তার শেষ ছিল না। একাধিক দফা বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকায় শুরুতেই দুই দল থেকেই এক ওভার করে কাটা হয়। পরে ভারতের দেওয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন পদ্ধতিতে ২৯ ওভারে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৫ রান।
বুলাওয়ায়োতে শনিবার লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশের জুনিয়র টাইগাররা। ১৭.২ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে তুলে নেয় ৯০ রান। কিন্তু এরপরই প্রকৃতির হস্তক্ষেপে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বৃষ্টি শেষে এলোমেলো ব্যাটিংয়ে মাত্র ২২ রানের ব্যবধানে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে ১৮ রানের পরাজয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হয় বাংলাদেশকে।
এর আগে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভারতকে ২৩৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে আল ফাহাদের আগুনঝরা বোলিং ছিল নজরকাড়া। যুব ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অষ্টম বোলার হিসেবে এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। ৩৮ রানে পাঁচটি উইকেট নিয়ে ভারতীয় ইনিংসের ইতি টানেন এই পেসার।
ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান দুই ব্যাটসম্যান। বিস্ময় বালক বৈভাব সুরিয়াভানশি ৩টি ছক্কা ও ৬টি চারে করেন ৭২ রান। অন্যদিকে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৩ ছক্কা ও ৪টি চারে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞান কুন্ডু। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে একমাত্র ফিফটি আসে আজিজুলের ব্যাট থেকে—এক ছক্কা ও চারটি চারে করেন ৫১ রান।
ম্যাচ শুরুর আগেও বৃষ্টি হানা দেয়, ফলে টস হয় দেরিতে। অসুস্থতার কারণে আজিজুলের বদলে টসে যান জাওয়াদ আবরার। টসের পর দুই অধিনায়কের হাত না মেলানো নিয়ে আলোচনার জন্ম দিলেও পরে বিসিবি বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি ছিল অনিচ্ছাকৃত।
টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া বাংলাদেশ শুরু থেকেই ভারতকে চাপে রাখে। তৃতীয় ওভারের শেষ দুই বলে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে ও ভেদান্ত ত্রিভেদিকে ফিরিয়ে দেন ফাহাদ। কাভারে ধরা পড়েন মাত্রে, স্লিপে ক্যাচ দেন ভেদান্ত।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ভারতের সহ-অধিনায়ক ভিহান মালহোত্রা। তাকে ফিরিয়ে দিয়ে জুটি ভাঙেন আজিজুল। পরে সুরিয়াভানশি ও অভিজ্ঞান মিলে দলকে আবার ম্যাচে ফেরান। বিস্ফোরক সুরিয়াভানশি এদিন দলের প্রয়োজনে সংযত ব্যাটিং করেন এবং ৩০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন। ৬৭ বলের ইনিংসে ৭২ রান করা এই ওপেনারকে ফিরিয়ে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন ইকবাল হোসেন।
এরপর কানিস্ক চৌহানকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়েন অভিজ্ঞান। ৮২ বলে ফিফটি স্পর্শ করা এই ব্যাটসম্যান ইনিংসের শেষদিকে দলের রান সোয়া দুইশ পার করান। ৩৯তম ওভারের পর আবার বৃষ্টি নামলে এক ঘণ্টার বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকে এবং ম্যাচের দৈর্ঘ্য আরও এক ওভার কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ফাহাদের টানা আঘাতে ভারতের ইনিংস থামে ২৩৮ রানে।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। চতুর্থ বলেই দিপেশের বলে ডিপ থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাওয়াদ আবরার। এরপর রিফাত বেগ ও আজিজুলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দল। ৫৬ রানের জুটি গড়ে তোলেন তারা। ৩৭ বলে ৩৭ রান করা রিফাত বিদায় নিলে জুটি ভাঙে।
১৮তম ওভারের মাঝেই আবার বৃষ্টি এসে খেলা বন্ধ করে দেয় প্রায় দেড় ঘণ্টার জন্য। ইনিংস কমে আসে ২৯ ওভারে। বৃষ্টির পর কালাম ও আজিজুলের ব্যাটে ভালোভাবেই লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচে প্রথমবার আক্রমণে এসে ভারতকে বড় সাফল্য এনে দেন ভিহান মালহোত্রা। তার অফ স্পিনে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।
২৫তম ওভারে আজিজুল বিদায়ের পরও ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের হাতেই। কিন্তু শেষদিকে একের পর এক উইকেট হারিয়ে সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ২৮ বলে ৩৯ রান তুলতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। পুরো ২৯ ওভারও খেলতে পারেনি দলটি।
শেষ পর্যন্ত ১৮ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। ম্যাচ শেষে দুই দলের ক্রিকেটারদের হাত মিলাতে দেখা যায়।
আগামী মঙ্গলবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।




















