ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

প্রকৌশল খাতে বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 1164

ছবি সংগৃহীত

 

 

রাবি প্রতিনিধি

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে স্কুলশিক্ষক বাবাকে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতকে বৈষম্যমূলক ও সংকটাপন্ন আখ্যা দিয়ে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাবি-রুয়েট-পাবিপ্রবি’র প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিপ্লোমাধারী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সহিংস আন্দোলন ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো খাতকে জিম্মি করে রেখেছে, যার ফলে বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড থেকে বিক্ষোভ শুরু করে জোহা চত্বর হয়ে মেইন গেইটে এসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে ১০ম গ্রেড উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পান না, এটি শতভাগ কোটায় সংরক্ষিত ডিপ্লোমাধারীদের জন্য। অথচ অন্য যেকোনো খাতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা এ ধরনের পদে আবেদন করতে পারেন। তাঁরা বলেন, এর ফলে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্ষেত্রেই সুযোগ হারিয়ে অন্য সেক্টর বা বিদেশমুখী হচ্ছেন।

তারা আরো বলেন, ডিপ্লোমাধারীরা চলতি দায়িত্বে পদোন্নতির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) থেকে শুরু করে বিসিএস ক্যাডার পদেও প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। এমনকি একই বছরে বিএসসি প্রকৌশলী আগে নিয়োগ পেলেও, পরবর্তীতে পদোন্নতি পাওয়া ডিপ্লোমাধারীদের সিনিয়রিটি দেওয়া হয়। এসব অনিয়মকে তাঁরা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন।

এসময় আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন-

১. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে প্রবেশের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি ডিগ্রি নির্ধারণ এবং সবার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা।

২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদে শতভাগ কোটা বাতিল করে বিএসসি ও এমএসসি প্রকৌশলীদের আবেদন করার সুযোগ।

৩. বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ যেন নামের আগে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রকৌশলীরা আরো অভিযোগ করেন, ডিপ্লোমাধারী সিন্ডিকেট গত কয়েক দশক ধরে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় করেছে। ১৯৭৮, ১৯৯৪, ২০১৩ সালে তাদের আন্দোলনে সরকারকে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল। ২০২৫ সালেও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৌশলীদের হুমকি ও অপমান করছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

ন্যায্য অধিকারের সাথে একাত্ব পোষন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, রাবির মেইন গেইট সবসময়ই ন্যায্য অধিকার আদায় ও আন্দোলনের প্রতীকী জায়গা। আমরা দেখেছি, জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীরা এই মেইন গেইটের সামনেই আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলেছিল। আজও রাবির শিক্ষার্থীরা ন্যায্য অধিকারের দাবিতে রুয়েট ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে।

তিনি আরো বলেন, সব ধরনের বৈষম্য ও অযৌক্তিক কোটা বিলোপ হোক। বিশেষ করে নবম ও দশম গ্রেডকে কেন্দ্র করে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন দ্রুত সমাধান করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে বৈষম্যের অবসান ঘটাতে শিক্ষার্থীদের আর রাজপথে নামতে না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রকৌশল খাতে বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০৫:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

 

 

রাবি প্রতিনিধি

আরও পড়ুন  আল্লু অর্জুনের বাড়ির সামনে তুলকালাম, ভিড় সামলাতে পুলিশের লাঠিচার্জ

বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতকে বৈষম্যমূলক ও সংকটাপন্ন আখ্যা দিয়ে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাবি-রুয়েট-পাবিপ্রবি’র প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিপ্লোমাধারী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সহিংস আন্দোলন ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো খাতকে জিম্মি করে রেখেছে, যার ফলে বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড থেকে বিক্ষোভ শুরু করে জোহা চত্বর হয়ে মেইন গেইটে এসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে ১০ম গ্রেড উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পান না, এটি শতভাগ কোটায় সংরক্ষিত ডিপ্লোমাধারীদের জন্য। অথচ অন্য যেকোনো খাতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা এ ধরনের পদে আবেদন করতে পারেন। তাঁরা বলেন, এর ফলে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্ষেত্রেই সুযোগ হারিয়ে অন্য সেক্টর বা বিদেশমুখী হচ্ছেন।

তারা আরো বলেন, ডিপ্লোমাধারীরা চলতি দায়িত্বে পদোন্নতির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) থেকে শুরু করে বিসিএস ক্যাডার পদেও প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। এমনকি একই বছরে বিএসসি প্রকৌশলী আগে নিয়োগ পেলেও, পরবর্তীতে পদোন্নতি পাওয়া ডিপ্লোমাধারীদের সিনিয়রিটি দেওয়া হয়। এসব অনিয়মকে তাঁরা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন।

এসময় আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন-

১. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে প্রবেশের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি ডিগ্রি নির্ধারণ এবং সবার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা।

২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদে শতভাগ কোটা বাতিল করে বিএসসি ও এমএসসি প্রকৌশলীদের আবেদন করার সুযোগ।

৩. বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ যেন নামের আগে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রকৌশলীরা আরো অভিযোগ করেন, ডিপ্লোমাধারী সিন্ডিকেট গত কয়েক দশক ধরে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় করেছে। ১৯৭৮, ১৯৯৪, ২০১৩ সালে তাদের আন্দোলনে সরকারকে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল। ২০২৫ সালেও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৌশলীদের হুমকি ও অপমান করছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

ন্যায্য অধিকারের সাথে একাত্ব পোষন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, রাবির মেইন গেইট সবসময়ই ন্যায্য অধিকার আদায় ও আন্দোলনের প্রতীকী জায়গা। আমরা দেখেছি, জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীরা এই মেইন গেইটের সামনেই আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলেছিল। আজও রাবির শিক্ষার্থীরা ন্যায্য অধিকারের দাবিতে রুয়েট ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে।

তিনি আরো বলেন, সব ধরনের বৈষম্য ও অযৌক্তিক কোটা বিলোপ হোক। বিশেষ করে নবম ও দশম গ্রেডকে কেন্দ্র করে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন দ্রুত সমাধান করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে বৈষম্যের অবসান ঘটাতে শিক্ষার্থীদের আর রাজপথে নামতে না হয়।