ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ

ভারত-বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ধস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 767

ছবি সংগৃহীত

 

বৈশ্বিক মন্দা এবং গত ৫ আগস্টের পর ভারত-বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বড় ধস নেমেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে, যেখানে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি এবং সংকট তৈরি হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আগের বছরের তুলনায় ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন বাণিজ্য কম হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কমেছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন এবং রফতানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন।

আরও পড়ুন  সিরিয়ার ওপর সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প প্রশাসন

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা। তারা দুই দেশের বিধি-নিষেধের অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বাণিজ্যিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় গত ৮ এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে ১৭ মে আরেকটি নিষেধাজ্ঞায় তৈরি পোশাক, তুলা সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক কাটের আসবাবপত্র ও ফলজাতীয় পণ্য রফতানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর ২৬ জুন পাট ও পাটজাত পণ্য স্থলপথে রফতানিও বন্ধ করে ভারত। অন্যদিকে দেশীয় শিল্প রক্ষার কারণে বাংলাদেশ সরকার স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন কম।

রফতানির দিক থেকেও চিত্র একই। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ভারত রফতানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন পণ্য, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে গেছে।” একই মন্তব্য করেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, “সবশেষ গত বৃহস্পতিবার ৪৮৬ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে, আর রফতানি হয়েছে মাত্র ৭৬ ট্রাক।”

বাণিজ্য সচল রাখতে উভয় দেশের সরকারের সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত-বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ধস

আপডেট সময় ১০:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

 

বৈশ্বিক মন্দা এবং গত ৫ আগস্টের পর ভারত-বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বড় ধস নেমেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে, যেখানে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি এবং সংকট তৈরি হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আগের বছরের তুলনায় ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন বাণিজ্য কম হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কমেছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন এবং রফতানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন।

আরও পড়ুন  সিরিয়ার ওপর সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প প্রশাসন

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা। তারা দুই দেশের বিধি-নিষেধের অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বাণিজ্যিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় গত ৮ এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে ১৭ মে আরেকটি নিষেধাজ্ঞায় তৈরি পোশাক, তুলা সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক কাটের আসবাবপত্র ও ফলজাতীয় পণ্য রফতানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর ২৬ জুন পাট ও পাটজাত পণ্য স্থলপথে রফতানিও বন্ধ করে ভারত। অন্যদিকে দেশীয় শিল্প রক্ষার কারণে বাংলাদেশ সরকার স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন কম।

রফতানির দিক থেকেও চিত্র একই। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ভারত রফতানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন পণ্য, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে গেছে।” একই মন্তব্য করেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, “সবশেষ গত বৃহস্পতিবার ৪৮৬ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে, আর রফতানি হয়েছে মাত্র ৭৬ ট্রাক।”

বাণিজ্য সচল রাখতে উভয় দেশের সরকারের সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।