ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

চট্টগ্রামে রেললাইনে মৃত্যু বাড়ছে, দেড় বছরে নিহত ২৪৪: রেলওয়ে পুলিশ সূত্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 588

ছবি সংগৃহীত

 

 

চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলায় রেললাইন ঘিরে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। রেলওয়ে পুলিশ ও জিআরপি সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে (২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত) ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৪ জন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে ২২ দিনে ২৮ শ’ ব্যাটারি রিকশা আটক

রেলওয়ে প্রশাসনের মতে, রেললাইনের ওপর হাঁটা, মোবাইলে কথা বলা কিংবা আড্ডা দেয়াই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ। গত ১৯ জুন রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট এলাকায় তিন তরুণ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দ্রুতগামী ট্রেনের হুইসেল শুনেও তারা সরে যেতে পারেননি।

রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিহত ৮৯ জনের মধ্যে ৪৪ জনই রেললাইনে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। আর ২০২৩ সালে ১৫৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ১১২ জনই ছিলেন রেললাইনের ওপর অবস্থানরত।

চট্টগ্রাম জেলা রেলওয়ে পুলিশের সুপার শাকিলা সোলতানা জানান, “সবচেয়ে বড় কারণ হলো অসতর্কতা। অনেকেই হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, ফলে ট্রেনের সাইরেন শুনতে না পেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।”
দ্রুত রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে গত বছরে ২৯ জন এবং চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষেও দেড় বছরে মারা গেছেন আরও ১২ জন।

স্থানীয়রা বলছেন, নিরাপদ পারাপারের জন্য অনেক স্থানে সেতু বা আন্ডারপাসের ব্যবস্থা নেই। ফলে লোকজন বাধ্য হয়ে রেললাইন পার হন। এর মধ্যে মোবাইলে কথা বলতে বলতে পথ চলা ও ট্রেন আসলেও দৌড়ে পার হওয়ার চেষ্টা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

রেল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করছে, এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি। লাইনের দুই পাশে বাজার, বসতি এবং অসচেতনভাবে চলাচলকে দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “ট্রেনকে কমপক্ষে ১০০ মিটার আগে থেকে ব্রেক করতে হয়। কিন্তু পথচারীরা মোবাইলে কথা বলতে বলতে বা হেডফোন কানে দিয়ে হেঁটে যাওয়ায় ট্রেনের হুইসেল শুনতে পায় না, তখনই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।”

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলায় প্রধান ও শাখা মিলিয়ে রেললাইনের দৈর্ঘ্য ৫০০ কিলোমিটারের বেশি। উন্নত বিশ্বে রেলপথকে নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে। সচেতনতা ও নিরাপদ পারাপারের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেললাইনে মৃত্যু বাড়ছে, দেড় বছরে নিহত ২৪৪: রেলওয়ে পুলিশ সূত্র

আপডেট সময় ১২:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

 

 

চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলায় রেললাইন ঘিরে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। রেলওয়ে পুলিশ ও জিআরপি সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে (২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত) ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৪ জন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের।

আরও পড়ুন  চারগুণ মাশুল আদায়ে অনড় চট্টগ্রাম বন্দর, বিপাকে আমদানি-রফতানি খাত

রেলওয়ে প্রশাসনের মতে, রেললাইনের ওপর হাঁটা, মোবাইলে কথা বলা কিংবা আড্ডা দেয়াই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ। গত ১৯ জুন রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট এলাকায় তিন তরুণ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দ্রুতগামী ট্রেনের হুইসেল শুনেও তারা সরে যেতে পারেননি।

রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিহত ৮৯ জনের মধ্যে ৪৪ জনই রেললাইনে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। আর ২০২৩ সালে ১৫৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ১১২ জনই ছিলেন রেললাইনের ওপর অবস্থানরত।

চট্টগ্রাম জেলা রেলওয়ে পুলিশের সুপার শাকিলা সোলতানা জানান, “সবচেয়ে বড় কারণ হলো অসতর্কতা। অনেকেই হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, ফলে ট্রেনের সাইরেন শুনতে না পেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।”
দ্রুত রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে গত বছরে ২৯ জন এবং চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষেও দেড় বছরে মারা গেছেন আরও ১২ জন।

স্থানীয়রা বলছেন, নিরাপদ পারাপারের জন্য অনেক স্থানে সেতু বা আন্ডারপাসের ব্যবস্থা নেই। ফলে লোকজন বাধ্য হয়ে রেললাইন পার হন। এর মধ্যে মোবাইলে কথা বলতে বলতে পথ চলা ও ট্রেন আসলেও দৌড়ে পার হওয়ার চেষ্টা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

রেল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করছে, এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি। লাইনের দুই পাশে বাজার, বসতি এবং অসচেতনভাবে চলাচলকে দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “ট্রেনকে কমপক্ষে ১০০ মিটার আগে থেকে ব্রেক করতে হয়। কিন্তু পথচারীরা মোবাইলে কথা বলতে বলতে বা হেডফোন কানে দিয়ে হেঁটে যাওয়ায় ট্রেনের হুইসেল শুনতে পায় না, তখনই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।”

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলায় প্রধান ও শাখা মিলিয়ে রেললাইনের দৈর্ঘ্য ৫০০ কিলোমিটারের বেশি। উন্নত বিশ্বে রেলপথকে নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে। সচেতনতা ও নিরাপদ পারাপারের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।