ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে ইরান: ঘোষণা খামেনির

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 452

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যুদ্ধবিরতির দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বার্তায় খামেনি বলেন, “প্রতারণাপূর্ণ জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য আমি ইরানি জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” তাঁর এ বক্তব্য দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন  আঞ্চলিক-বৈশ্বিক পরিবর্তনে ইরান-চীন হাত মিলাচ্ছে

উল্লেখ্য, ১২ জুন দিবাগত রাত থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল এই অভিযানে নামে।

ইসরায়েলের এই আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরান। দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়।

এই সংঘাতের মাত্র ১০ দিন পর, ২২ জুন মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী হঠাৎই হামলা চালায় ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায়। এই অভিযানের নামকরণ করা হয় ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার নেতৃত্ব দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই হস্তক্ষেপের ফলে ইসরায়েলের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হয়।

যুদ্ধবিরতির পরপরই আয়াতুল্লাহ খামেনির বিজয়ের ঘোষণা অনেককে অবাক করলেও ইরানে এটি উদযাপনের রূপ নিয়েছে। তাঁর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাস্তাঘাটে বিজয়ের উৎসবে মেতে ওঠে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতে ইরান সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে এর পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

বর্তমানে দুই দেশই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ফিরে এলেও এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে ইরান: ঘোষণা খামেনির

আপডেট সময় ০৬:৩০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

 

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যুদ্ধবিরতির দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বার্তায় খামেনি বলেন, “প্রতারণাপূর্ণ জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য আমি ইরানি জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” তাঁর এ বক্তব্য দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন  কুয়েতের তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা

উল্লেখ্য, ১২ জুন দিবাগত রাত থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল এই অভিযানে নামে।

ইসরায়েলের এই আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরান। দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়।

এই সংঘাতের মাত্র ১০ দিন পর, ২২ জুন মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী হঠাৎই হামলা চালায় ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায়। এই অভিযানের নামকরণ করা হয় ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার নেতৃত্ব দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই হস্তক্ষেপের ফলে ইসরায়েলের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হয়।

যুদ্ধবিরতির পরপরই আয়াতুল্লাহ খামেনির বিজয়ের ঘোষণা অনেককে অবাক করলেও ইরানে এটি উদযাপনের রূপ নিয়েছে। তাঁর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাস্তাঘাটে বিজয়ের উৎসবে মেতে ওঠে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতে ইরান সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে এর পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

বর্তমানে দুই দেশই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ফিরে এলেও এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।