ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

হাজারীবাগে পারিবারিক কলহে বাবার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পুত্র খুন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
  • / 465

ছবি সংগৃহীত

 

 

রাজধানীর হাজারীবাগ ঝাউচর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে রাহাবুল ইসলাম রাসেল (১৬) নামে এক কিশোর। শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝাউচর আমলা টাওয়ার রোডের একটি বাড়ির নিচতলার ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  হাজারীবাগে আগুনে পুড়ল বহুতল বাণিজ্যিক ভবন

গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেলকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাসেল একটি হোটেলে কারিগর হিসেবে কাজ করতো।

রাসেলের মামা হুমায়ুন কবির জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়। ঢাকায় ঝাউচর আমলা টাওয়ার রোডের ওই বাসার নিচ তলায় রাসেল তার বাবা জুয়েল রানার সঙ্গে ভাড়া থাকতো। মা শাহনাজ বেগম কর্মসূত্রে জর্ডানে অবস্থান করছেন।

হুমায়ুন বলেন, “রাত ১১টার দিকে জুয়েল রানা নিজেই আমাদের ফোন করে জানায়, সে তার ছেলে রাসেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে এবং তার অবস্থা ভালো না। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত রাসেলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাসেল তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ। বড় ভাই পশু চিকিৎসক এবং ছোট ভাই মাদরাসা ছাত্র—তারা গ্রামে থাকেন। রাসেলের মা সম্প্রতি তাকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন। তবে রাসেলের পরিবর্তে জুয়েল রানা নিজেই বিদেশ যেতে চাইছিলেন। এতে দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। প্রবাসে না নিলে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি ও দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দিতেন জুয়েল। এই নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।

পরিবারের ধারণা, এই দ্বন্দ্বের জেরে রাগের বসে নিজ ছেলে রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন জুয়েল রানা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “স্বজনরা কিশোর রাসেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।”

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা জুয়েল রানা পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাজারীবাগে পারিবারিক কলহে বাবার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পুত্র খুন

আপডেট সময় ১১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

 

 

রাজধানীর হাজারীবাগ ঝাউচর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে রাহাবুল ইসলাম রাসেল (১৬) নামে এক কিশোর। শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝাউচর আমলা টাওয়ার রোডের একটি বাড়ির নিচতলার ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  মা–বোনের সম্মানে আঘাত এলে কোনো আপস নয়: জামায়াত আমির

গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেলকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাসেল একটি হোটেলে কারিগর হিসেবে কাজ করতো।

রাসেলের মামা হুমায়ুন কবির জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়। ঢাকায় ঝাউচর আমলা টাওয়ার রোডের ওই বাসার নিচ তলায় রাসেল তার বাবা জুয়েল রানার সঙ্গে ভাড়া থাকতো। মা শাহনাজ বেগম কর্মসূত্রে জর্ডানে অবস্থান করছেন।

হুমায়ুন বলেন, “রাত ১১টার দিকে জুয়েল রানা নিজেই আমাদের ফোন করে জানায়, সে তার ছেলে রাসেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে এবং তার অবস্থা ভালো না। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত রাসেলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাসেল তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ। বড় ভাই পশু চিকিৎসক এবং ছোট ভাই মাদরাসা ছাত্র—তারা গ্রামে থাকেন। রাসেলের মা সম্প্রতি তাকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন। তবে রাসেলের পরিবর্তে জুয়েল রানা নিজেই বিদেশ যেতে চাইছিলেন। এতে দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। প্রবাসে না নিলে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি ও দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দিতেন জুয়েল। এই নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।

পরিবারের ধারণা, এই দ্বন্দ্বের জেরে রাগের বসে নিজ ছেলে রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন জুয়েল রানা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “স্বজনরা কিশোর রাসেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।”

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা জুয়েল রানা পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।