ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

শিল্পখাতে বিনিয়োগে বড় বাধা গ্যাস সংকট: আব্দুল হাই সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • / 403

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস সংকট এমন মন্তব্য করেছেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি ও বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট হলো গ্যাসের ঘাটতি।

তার ভাষায়, “শিল্পে গ্যাস সংকট অনেক পুরোনো হলেও বর্তমানে তা চরম আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে জেনারেটর চালানোর মতো ন্যূনতম চাপও পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।”

আরও পড়ুন  শিল্পখাতে গ্যাসের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে বিপাকে রপ্তানি ও উদ্যোক্তারা

তিনি জানান, তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড়, এরপর ডায়িং, কাটিং, ওয়াশিং এবং পোশাক উৎপাদন প্রতিটি ধাপে গ্যাস অপরিহার্য। কিন্তু এখন এসব ধাপে গড়ে ৭০ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে। এতে শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু উৎপাদনই নয়, আমদানি, রপ্তানি, ব্যাংক, বীমা, কর্মসংস্থান সব কিছুই হুমকির মুখে।

এই সংকট সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তিনি বলেন, “ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালানো হচ্ছে, বিদ্যুতের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে কিন্তু এতে ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যায়। ভারী শিল্পে দীর্ঘ সময় এভাবে উৎপাদন চালানো সম্ভব নয়। কেউ কেউ সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে অল্প সময়ের জন্য কাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।”

আব্দুল হাই সরকার মনে করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান কাঠামো ও সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে আলাদা কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল না। তবে গ্যাস সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে না। অতীতেও এ ধরনের সংকটে অনেক চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু ফল আসেনি। এবার সময় এসেছে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের।”

সিলেট, ভোলা ও সমুদ্রের তলদেশে গ্যাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন ছাড়া বিকল্প নেই।”

সার্বিকভাবে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে সতর্ক করেন এই অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিল্পখাতে বিনিয়োগে বড় বাধা গ্যাস সংকট: আব্দুল হাই সরকার

আপডেট সময় ১২:১৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

 

দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস সংকট এমন মন্তব্য করেছেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি ও বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট হলো গ্যাসের ঘাটতি।

তার ভাষায়, “শিল্পে গ্যাস সংকট অনেক পুরোনো হলেও বর্তমানে তা চরম আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে জেনারেটর চালানোর মতো ন্যূনতম চাপও পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।”

আরও পড়ুন  দৈনিক ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস পাবে শিল্পখাত: জ্বালানি মন্ত্রণালয়

তিনি জানান, তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড়, এরপর ডায়িং, কাটিং, ওয়াশিং এবং পোশাক উৎপাদন প্রতিটি ধাপে গ্যাস অপরিহার্য। কিন্তু এখন এসব ধাপে গড়ে ৭০ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে। এতে শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু উৎপাদনই নয়, আমদানি, রপ্তানি, ব্যাংক, বীমা, কর্মসংস্থান সব কিছুই হুমকির মুখে।

এই সংকট সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তিনি বলেন, “ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালানো হচ্ছে, বিদ্যুতের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে কিন্তু এতে ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যায়। ভারী শিল্পে দীর্ঘ সময় এভাবে উৎপাদন চালানো সম্ভব নয়। কেউ কেউ সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে অল্প সময়ের জন্য কাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।”

আব্দুল হাই সরকার মনে করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান কাঠামো ও সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে আলাদা কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল না। তবে গ্যাস সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে না। অতীতেও এ ধরনের সংকটে অনেক চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু ফল আসেনি। এবার সময় এসেছে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের।”

সিলেট, ভোলা ও সমুদ্রের তলদেশে গ্যাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন ছাড়া বিকল্প নেই।”

সার্বিকভাবে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে সতর্ক করেন এই অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী।