ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

যুক্তরাষ্ট্রে নজরদারির শঙ্কায় ‘বাটন ফোন’ ও সাদামাটা ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছেন ইইউ কর্মকর্তারা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
  • / 402

ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইউরোপীয় কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবার বহন করছেন সাধারণ বাটন ফোন ও প্রথাগত ল্যাপটপ। কারণ, ওয়াশিংটন সফরে গোপন নজরদারি ও প্রযুক্তি সুরক্ষা নিয়ে ইইউ’র উদ্বেগ এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সম্মেলনে যোগ দিতে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। তবে আগেভাগেই তারা জানেন, আমেরিকায় প্রবেশের সময় ‘কোথায় কাজ করেন’, ‘কতটা গুরুত্বপূর্ণ’ এসব পদ-পদবীর তেমন কোনো মূল্য নেই। মার্কিন নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সন্দেহ হলেই মোবাইল ও ল্যাপটপে তল্লাশি চালায়, এমনকি কাউকে কাউকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানোর নজির রয়েছে।

তাই এবার সফরটিকে নিরাপদ রাখতেই নতুন কৌশল নিয়েছে ইইউ। প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র বাটন ফোন এবং সীমিত কার্যক্ষমতাসম্পন্ন ‘ক্লিন’ ল্যাপটপ। এসব ডিভাইসে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য থাকবে না, ফলে নজরদারি করলেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়াতে আগ্রহী বিটিএমএ, স্থায়ী শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি

ইউরোপীয় কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখনো শতভাগ নিশ্চিত নই, আমেরিকার উদ্দেশ্য কী। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। আমরা চাই না, আমাদের সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে কোনোভাবে অনুপ্রবেশ ঘটুক।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতো চীন ও রাশিয়া সফরের সময়। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও একইভাবে সতর্ক হচ্ছে ইউরোপ। প্রযুক্তিগত গোয়েন্দাগিরির আশঙ্কা এতটাই বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশেও আর আগের মতো নির্ভর করা যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনে অবস্থানকালীন সময়ে ইইউ প্রতিনিধিরা আলাদা একটি সুরক্ষিত চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবে।

এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক যতই কৌশলগত হোক না কেন, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আর সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আধুনিক স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপের বদলে বেছে নেওয়া হয়েছে সেই পুরনো ‘বাটন ফোন’।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে নজরদারির শঙ্কায় ‘বাটন ফোন’ ও সাদামাটা ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছেন ইইউ কর্মকর্তারা

আপডেট সময় ০৮:৪১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইউরোপীয় কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবার বহন করছেন সাধারণ বাটন ফোন ও প্রথাগত ল্যাপটপ। কারণ, ওয়াশিংটন সফরে গোপন নজরদারি ও প্রযুক্তি সুরক্ষা নিয়ে ইইউ’র উদ্বেগ এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সম্মেলনে যোগ দিতে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। তবে আগেভাগেই তারা জানেন, আমেরিকায় প্রবেশের সময় ‘কোথায় কাজ করেন’, ‘কতটা গুরুত্বপূর্ণ’ এসব পদ-পদবীর তেমন কোনো মূল্য নেই। মার্কিন নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সন্দেহ হলেই মোবাইল ও ল্যাপটপে তল্লাশি চালায়, এমনকি কাউকে কাউকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানোর নজির রয়েছে।

তাই এবার সফরটিকে নিরাপদ রাখতেই নতুন কৌশল নিয়েছে ইইউ। প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র বাটন ফোন এবং সীমিত কার্যক্ষমতাসম্পন্ন ‘ক্লিন’ ল্যাপটপ। এসব ডিভাইসে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য থাকবে না, ফলে নজরদারি করলেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

আরও পড়ুন  নতুন সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ সহযোগিতার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ইউরোপীয় কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখনো শতভাগ নিশ্চিত নই, আমেরিকার উদ্দেশ্য কী। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। আমরা চাই না, আমাদের সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে কোনোভাবে অনুপ্রবেশ ঘটুক।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতো চীন ও রাশিয়া সফরের সময়। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও একইভাবে সতর্ক হচ্ছে ইউরোপ। প্রযুক্তিগত গোয়েন্দাগিরির আশঙ্কা এতটাই বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশেও আর আগের মতো নির্ভর করা যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনে অবস্থানকালীন সময়ে ইইউ প্রতিনিধিরা আলাদা একটি সুরক্ষিত চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবে।

এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক যতই কৌশলগত হোক না কেন, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আর সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আধুনিক স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপের বদলে বেছে নেওয়া হয়েছে সেই পুরনো ‘বাটন ফোন’।