অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
- আপডেট সময় ০২:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 16
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে পুলিশের অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। এর আগে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, মধ্যরাতে তাদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ তদন্তে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাদের দ্বিতীয় দাবি, কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।
প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাঁকে কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, মধ্যরাতে পুলিশের অভিযানে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত এবং এক নারী শিক্ষার্থীর চুল ও হিজাব ধরে টানাটানির অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি—প্রদত্ত তথ্যে এমন বক্তব্য নেই।




















