ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কের চাপ, বাংলাদেশ খুঁজছে রপ্তানি সংকটের সমাধান: বাণিজ্য উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • / 276

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নতুন করে শঙ্কা ছড়িয়েছে অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, মার্কিন বাজারে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সম্ভাব্য পথগুলো সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, “আমরা কেবল সমস্যার কথা বলছি না, এর টেকসই সমাধান খুঁজছি।”

আরও পড়ুন  হাক্কানির মাথার জন্য ঘোষিত কোটি ডলারের পুরস্কার প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক পোশাক ক্রেতা। দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। অতএব, এ খাতে বড় ধরনের শুল্ক চাপ দেশের রপ্তানি আয়ে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুল্ক কাঠামো শুধু পণ্য নয়, বরং বাণিজ্য ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশের মতো তুলনামূলকভাবে ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এটি একপেশে সিদ্ধান্ত।

সরকার ইতিমধ্যেই তুলাসহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিজিএমইএ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানান, “আমরা চাইলে আমেরিকান তুলা আমদানি করতে পারি, তবে সেজন্য একটি স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্ক আরোপের ঝুঁকি রোধে তুলা আমদানি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। “যদি আমেরিকান তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক আমরা আবার তাদের কাছেই রপ্তানি করি, তাহলে তারা দ্বিধায় পড়বে নতুন শুল্ক চাপানোর আগে,” বলেন তিনি।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক হার কম হওয়ায় কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে দেশটি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশি সুতা আমদানি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায়। বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রপ্তানি ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা করা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের ভাষায়, “এটি শুধু দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয় এটা এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সুনামি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কের চাপ, বাংলাদেশ খুঁজছে রপ্তানি সংকটের সমাধান: বাণিজ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০২:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নতুন করে শঙ্কা ছড়িয়েছে অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, মার্কিন বাজারে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সম্ভাব্য পথগুলো সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, “আমরা কেবল সমস্যার কথা বলছি না, এর টেকসই সমাধান খুঁজছি।”

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের রোহিঙ্গা ও লেবাননের সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক পোশাক ক্রেতা। দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। অতএব, এ খাতে বড় ধরনের শুল্ক চাপ দেশের রপ্তানি আয়ে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুল্ক কাঠামো শুধু পণ্য নয়, বরং বাণিজ্য ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশের মতো তুলনামূলকভাবে ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এটি একপেশে সিদ্ধান্ত।

সরকার ইতিমধ্যেই তুলাসহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিজিএমইএ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানান, “আমরা চাইলে আমেরিকান তুলা আমদানি করতে পারি, তবে সেজন্য একটি স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্ক আরোপের ঝুঁকি রোধে তুলা আমদানি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। “যদি আমেরিকান তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক আমরা আবার তাদের কাছেই রপ্তানি করি, তাহলে তারা দ্বিধায় পড়বে নতুন শুল্ক চাপানোর আগে,” বলেন তিনি।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক হার কম হওয়ায় কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে দেশটি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশি সুতা আমদানি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায়। বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রপ্তানি ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা করা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের ভাষায়, “এটি শুধু দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয় এটা এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সুনামি।”