ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চব্বিশের পর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের যাত্রা শুরু ১৩ মার্চ থেকে ঈদ ফিরতি ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটে কনটেইনার ডিপোর কার্যক্রম ঝুঁকিতে ত্রয়োদশ সংসদ: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে টয়োটা ইসরায়েলে একযোগে ১০০টি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরান-হিজবুল্লাহর উপদেষ্টা নিয়োগের চিঠি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ মন্ত্রণালয়ের তানজিদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ জয় বাংলাদেশের দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দুটি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি: জামায়াত আমির ঈদযাত্রায় প্রতি বাসে দুইজন চালক রাখার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

গৃহযুদ্ধ ও বর্জনের মধ্যেই মিয়ানমারে জান্তা সমর্থিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 351

ছবি: সংগৃহীত

 

 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে প্রথমবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চরম গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই আজ রোববার দেশটিতে তিন ধাপের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনের আগেই ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে করতে বদ্ধপরিকর: আইন উপদেষ্টা

ভোটের চিত্র ও জনবল:
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটে উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা ২০১৫ বা ২০২০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার অভাব এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাই এই নিম্ন উপস্থিতির কারণ।

জান্তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য:
ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (USDP) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। প্রথম পর্বে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনেই জয় পেয়েছে তারা। ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন থেকে বাদ পড়ছে বিশাল এলাকা:
মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (টাউনশিপ) মধ্যে ৫৬টিতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিরোধী দলের অনুপস্থিতি:
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে:
অং সান সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (NLD)-সহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সু চি এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে কারাবন্দি বা নির্বাসিত।
ভোটের বিরোধিতা করলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক জান্তাকে আইনি বৈধতা দেওয়া এবং তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করা। চীন সমর্থিত এই জান্তা সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গৃহযুদ্ধ ও বর্জনের মধ্যেই মিয়ানমারে জান্তা সমর্থিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

আপডেট সময় ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে প্রথমবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চরম গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই আজ রোববার দেশটিতে তিন ধাপের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন  কুর্দিদের অতিদ্রুত পক্ষ নির্বাচন করতে বলেছেন ট্রাম্প

ভোটের চিত্র ও জনবল:
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটে উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা ২০১৫ বা ২০২০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার অভাব এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাই এই নিম্ন উপস্থিতির কারণ।

জান্তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য:
ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (USDP) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। প্রথম পর্বে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনেই জয় পেয়েছে তারা। ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন থেকে বাদ পড়ছে বিশাল এলাকা:
মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (টাউনশিপ) মধ্যে ৫৬টিতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিরোধী দলের অনুপস্থিতি:
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে:
অং সান সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (NLD)-সহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সু চি এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে কারাবন্দি বা নির্বাসিত।
ভোটের বিরোধিতা করলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক জান্তাকে আইনি বৈধতা দেওয়া এবং তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করা। চীন সমর্থিত এই জান্তা সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।