এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:৩১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 29
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি পরীক্ষকদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যারা খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো নিয়ে তারা কাজ করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষা খাত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিতে জর্জরিত পরিস্থিতির মধ্যেই তারা দায়িত্ব নিয়েছেন এবং সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট দূর করারও প্রতিশ্রুতি দেন ড. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর সেশনজট থাকবে না। শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো করার পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে তারা যেন বেকার না থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ জন্য শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করা এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কোর্স চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ল কলেজগুলোর বাড়তি ফি আদায়ের প্রসঙ্গও অনুষ্ঠানে উঠে আসে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রে তিনি দেখেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় অনেক বেড়েছে। অথচ ল কোর্সের ফরম পূরণের ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপিয়ে এ ধরনের অর্থ আদায় করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবারই প্রথমবারের মতো ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠানে ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অতিথিরা তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।



















