ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা তাদের শিক্ষাঙ্গন থেকে নিয়ে গেছে ফাঁসির মঞ্চে ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইলে ভারতের হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা প্রথম রোজা কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ ৭ মাসে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি: মাহ্দী আমিন শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ: জাহেদ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা তাদের শিক্ষাঙ্গন থেকে নিয়ে গেছে ফাঁসির মঞ্চে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10

ছবি সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রীলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

সাদ্দাম হোসেনের ও ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন।

আরও পড়ুন  শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হুমকির ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাকে শোকজ

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ফাঁসির আসামি হওয়ার নজির এই প্রথম নয়। ২০১৩ সালে বিশ্বজিৎ হত্যার দায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আট কর্মীকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা-কর্মীর মৃত্যুদণ্ড হয়। আর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক ২০ নেতা-কর্মীর ফাঁসির ঘটনা তো এখনো সকলের স্মরণে আছে। ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা তাদের রাজপথের ছাত্রনেতা থেকে বানিয়েছে অত্যাচারী চরিত্র। শিক্ষাঙ্গন থেকে নিয়ে গেছে ফাঁসির মঞ্চে।

বাংলার ইতিহাসে ছাত্রনেতাদের ফাঁসির ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে তা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লাড়ায় করার প্রতিদান। ক্ষুদিরাম বসু ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বোমা হামলার দায়ে ১৯০৮ সালে ফাঁসির দণ্ড পান। তখন তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী একজন ছাত্র। মাস্টারদা সূর্য সেন তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন। ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি (চট্টগ্রাম শাখা) গঠন করে সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। আর এই অপরাধে ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪ তারিখে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

দিনশেষে এই রায় বর্তমান ও আগামীর ছাত্রনেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একই সঙ্গে এটি ক্ষমতাসীনদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। ক্ষমতার অপব্যবহার, নিপীড়ন ও অন্যায়ের পরিণতি শেষ পর্যন্ত কঠিন শাস্তি ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতারা প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিয়েও ইতিহাসে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে যান। সময়ের পরিক্রমায় তাই ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং ন্যায়, জবাবদিহি ও মানুষের অধিকারের পক্ষেই টিকে থাকে ইতিহাসের রায়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা তাদের শিক্ষাঙ্গন থেকে নিয়ে গেছে ফাঁসির মঞ্চে

আপডেট সময় ০৫:২০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রীলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

সাদ্দাম হোসেনের ও ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন।

আরও পড়ুন  ঢাবি ছাত্রদল সভাপতির মনোভাবকে সম্মান জানালেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ফাঁসির আসামি হওয়ার নজির এই প্রথম নয়। ২০১৩ সালে বিশ্বজিৎ হত্যার দায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আট কর্মীকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা-কর্মীর মৃত্যুদণ্ড হয়। আর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক ২০ নেতা-কর্মীর ফাঁসির ঘটনা তো এখনো সকলের স্মরণে আছে। ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা তাদের রাজপথের ছাত্রনেতা থেকে বানিয়েছে অত্যাচারী চরিত্র। শিক্ষাঙ্গন থেকে নিয়ে গেছে ফাঁসির মঞ্চে।

বাংলার ইতিহাসে ছাত্রনেতাদের ফাঁসির ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে তা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লাড়ায় করার প্রতিদান। ক্ষুদিরাম বসু ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বোমা হামলার দায়ে ১৯০৮ সালে ফাঁসির দণ্ড পান। তখন তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী একজন ছাত্র। মাস্টারদা সূর্য সেন তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন। ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি (চট্টগ্রাম শাখা) গঠন করে সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। আর এই অপরাধে ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪ তারিখে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

দিনশেষে এই রায় বর্তমান ও আগামীর ছাত্রনেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একই সঙ্গে এটি ক্ষমতাসীনদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। ক্ষমতার অপব্যবহার, নিপীড়ন ও অন্যায়ের পরিণতি শেষ পর্যন্ত কঠিন শাস্তি ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতারা প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিয়েও ইতিহাসে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে যান। সময়ের পরিক্রমায় তাই ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং ন্যায়, জবাবদিহি ও মানুষের অধিকারের পক্ষেই টিকে থাকে ইতিহাসের রায়।