ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
কাদেরসহ ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেফতার: চিফ প্রসিকিউটর এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা তাদের শিক্ষাঙ্গন থেকে নিয়ে গেছে ফাঁসির মঞ্চে ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইলে ভারতের হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা প্রথম রোজা কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ ৭ মাসে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি: মাহ্দী আমিন শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ: জাহেদ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

কাদেরসহ ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেফতার: চিফ প্রসিকিউটর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13

ছবি সংগৃহীত

 

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, দণ্ডিত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে তাদের গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

আরও পড়ুন  জীবননগর সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১৪ অনুপ্রবেশকারী আটক

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে কিছু অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

দণ্ডিত আসামিরা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন—জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে অবস্থান শনাক্ত করা গেলে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ রায় দিয়েছেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি শুকরিয়া আদায়ের কথাও বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিদের সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি ও ব্যক্তিগত দায় সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পর নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ কয়েকজন বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে মন্তব্য করছেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিরা ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু বিচার মোকাবিলা করেননি। তাঁর দাবি, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের বক্তব্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কোনো আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকলে আইন অনুযায়ীই তার বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছে।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি জানান, রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ সীমিত থাকতে পারে। তবে ৩০ দিন পর রায় বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

কাদেরসহ ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেফতার: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৫:৪১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, দণ্ডিত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে তাদের গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

আরও পড়ুন  'অপারেশন ইগল হান্ট' মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ' লীগ নেতা গ্রেফতার

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে কিছু অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

দণ্ডিত আসামিরা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন—জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে অবস্থান শনাক্ত করা গেলে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ রায় দিয়েছেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি শুকরিয়া আদায়ের কথাও বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিদের সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি ও ব্যক্তিগত দায় সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পর নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ কয়েকজন বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে মন্তব্য করছেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিরা ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু বিচার মোকাবিলা করেননি। তাঁর দাবি, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের বক্তব্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কোনো আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকলে আইন অনুযায়ীই তার বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছে।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি জানান, রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ সীমিত থাকতে পারে। তবে ৩০ দিন পর রায় বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।