যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চায় সরকার
- আপডেট সময় ১২:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 39
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুত।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি, বর্তমান ও সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটি শুধু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবেও কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নেও অবদান রাখছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের জাতীয় রাজস্বের ২০ শতাংশেরও বেশি জোগান দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিফলন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
‘যখন কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা আমাদের কাছে উত্থাপন করা হবে, আমার মন্ত্রণালয় ও সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে,’ বলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্টেভা বাংলাদেশের উদাহরণ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স-সংক্রান্ত একটি জটিলতা সরকারের উদ্যোগে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে দেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে শুধু সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিজিটালাইজেশন বাড়ানো, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায় আরও সম্ভাবনাময় হতে পারে। বাংলাদেশে আরও মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে এবং বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচ্যামের মতো সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
অ্যামচ্যামের ৩০ বছর পূর্তিকে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
























