ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনে আইনে বাধা না থাকলে সবাই প্রার্থী হতে পারবেন: সিইসি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 34

ছবি সংগৃহীত

 

আইনে যাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই, তারা সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল মুখ্য বিষয় নয়; আইন অনুযায়ীই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘নির্বাচনের দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি।

আরও পড়ুন  পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা হবে বিশ্বসেরা মডেল : সিইসি

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যাদের আইনে বাধা নেই এবং যারা যোগ্য, তারা সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আমাদের ও পুলিশের কমিটমেন্টে কোনো ঘাটতি নেই। আমি গ্যারান্টি দিতে পারি—নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন থেকে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়ে সিইসি বলেন, অতি শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্বাচন কমিশনকে অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা ও সদস্য আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি। তাদের দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিইসি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের অঙ্গীকার হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, একই মান বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আয়োজন করতে চায় কমিশন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে যে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে। এর ফলে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, সিভিল সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর মানুষের আস্থা অনেকাংশে পুনরুদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন সিইসি। তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ির সংকট রয়েছে এবং নির্বাচনের সময় তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ২৪ জুলাই-আগস্টের সময়ে পুলিশের অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে, যার সবগুলো এখনো প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

নাসির উদ্দিন জানান, পুলিশের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকে এ অর্থ ব্যয় করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসার সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানান তিনি। সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানোর সময় হয়নি। তবে নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সেল কাজ করছে।

অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরাই এবার দায়িত্ব পালন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আইজিপির নিজের পুলিশ বাহিনীর ওপর যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। একই জনবল ও সম্পদ থাকলেও সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে একই সম্পদ দিয়ে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক যত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সবই নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।

পুলিশের মনোবল ফিরেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, বিষয়টি সাংবাদিক ও জনগণই মূল্যায়ন করবেন। তবে তার মতে, পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনতে তারা সক্ষম হয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

স্থানীয় নির্বাচনে আইনে বাধা না থাকলে সবাই প্রার্থী হতে পারবেন: সিইসি

আপডেট সময় ০৪:১৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আইনে যাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই, তারা সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল মুখ্য বিষয় নয়; আইন অনুযায়ীই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘নির্বাচনের দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি।

আরও পড়ুন  শীর্ষ তিন সাবেক সিইসিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও প্রতারণার অভিযোগ

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যাদের আইনে বাধা নেই এবং যারা যোগ্য, তারা সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আমাদের ও পুলিশের কমিটমেন্টে কোনো ঘাটতি নেই। আমি গ্যারান্টি দিতে পারি—নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন থেকে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়ে সিইসি বলেন, অতি শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্বাচন কমিশনকে অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা ও সদস্য আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি। তাদের দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিইসি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের অঙ্গীকার হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, একই মান বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আয়োজন করতে চায় কমিশন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে যে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে। এর ফলে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, সিভিল সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর মানুষের আস্থা অনেকাংশে পুনরুদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন সিইসি। তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ির সংকট রয়েছে এবং নির্বাচনের সময় তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ২৪ জুলাই-আগস্টের সময়ে পুলিশের অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে, যার সবগুলো এখনো প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

নাসির উদ্দিন জানান, পুলিশের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকে এ অর্থ ব্যয় করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসার সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানান তিনি। সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানোর সময় হয়নি। তবে নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সেল কাজ করছে।

অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরাই এবার দায়িত্ব পালন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আইজিপির নিজের পুলিশ বাহিনীর ওপর যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। একই জনবল ও সম্পদ থাকলেও সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে একই সম্পদ দিয়ে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক যত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সবই নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।

পুলিশের মনোবল ফিরেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, বিষয়টি সাংবাদিক ও জনগণই মূল্যায়ন করবেন। তবে তার মতে, পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনতে তারা সক্ষম হয়েছেন।