তারেক রহমানকে স্মরণীয় অভ্যর্থনা দেবে ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী
- আপডেট সময় ০৮:৫৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 72
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে ভারত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এই সফরের সুফল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষের কাছেই পৌঁছাবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সম্মানে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁকে একজন ‘চমৎকার জননেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর ভারতের লোকসভার স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আন্তরিকতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতীয় হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফরে যাবেন, তখন তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে এমন একটি স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে, যা তাঁর প্রাপ্য। একই সঙ্গে ওই সফরের সুফল দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে ছোটখাটো কিছু ভুল-বোঝাবুঝি বা বাধা এসেছে বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তবে এসব কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি তাঁকে ফোন করতে পারেন। প্রতিবেশী দেশের প্রতি ভারতের ‘অসীম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক নির্ভরতা’র কারণেই তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের নীতির মধ্যে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ বিষয়টি রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কে যেসব ছোটখাটো ভুল-বোঝাবুঝি বা বাধা তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে পরিবারের অভ্যন্তরের স্বাভাবিক মতপার্থক্যের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতির কারণে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় না। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।





















