জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারে মৎস্য, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৬:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 31
মৎস্য খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের অব্যবহৃত নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর সংস্কার করে সেগুলোকে মৎস্য উৎপাদনের কাজে সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘রুপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণ পদক) প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় হাওর ও জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। মাছের উৎপাদন ও সম্পদ রক্ষা করতে হলে একই সঙ্গে পরিবেশের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা করা গেলে মানুষ যেমন সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাবে। একই সঙ্গে মৎস্য ও পশুসম্পদসহ অন্যান্য সম্পদও সুস্থ পরিবেশে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নদী-নালা, খাল-বিল ও হাওর-জলাশয়ে আবর্জনা, টিস্যু পেপার ও প্লাস্টিকের বোতল ফেলার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবার, পরিবেশ, মাছ ও পানি রক্ষার পাশাপাশি দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মৎস্য খাতের অবদানের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
মৎস্য খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০টি ঘেরে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭ হাজার একর জমিতে ‘শ্রিম্প সিটি’ বাস্তবায়নে মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।
ইলিশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ এবং জাতীয় জিডিপিতে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি। বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে প্রবর্তিত ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর ধারাবাহিকতায় দেশে ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
মৎস্যজীবী ও জেলেদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য চাষিদের কৃষক কার্ড দেওয়া এবং জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এই তহবিল থেকে সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোক্তাদের শিল্প শুরু বা পরিচালনার জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নতুন উদ্যোক্তাদের এই সুযোগ গ্রহণ করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মৎস্য ও পশুসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত জুনে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। বিদেশে নতুন নতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক বক্তব্য দেন।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।





















