জনকল্যাণেই অগ্রাধিকার: মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় ০৬:০০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 38
জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং জাতীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে মানুষের জীবনমানে টেকসই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এমন প্রকল্পই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের চলমান ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ২০২৫–২৬ ও ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকৃত প্রভাব বিবেচনায় রাখতে হবে। জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানুষের উপকারে আসবে—এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আগামী পাঁচ, ১০ কিংবা ৫০ বছর পর দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন করারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, সতর্কতা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্প সংশোধন, পুনর্বিন্যাস এবং সমজাতীয় প্রকল্প একীভূত করে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ। তাই প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান, ব্যয়দক্ষতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। এ খাতে টেকসই ও সময়োপযোগী প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশিক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি নারী উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, দুই বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব এবং মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















