ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত; সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস দিল্লিতে জয়শঙ্কর-খলিলুর বৈঠক: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা আল্লু অর্জুনের বাড়ির সামনে তুলকালাম, ভিড় সামলাতে পুলিশের লাঠিচার্জ রাজশাহী মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান সুরক্ষিত সকল প্রাণ আগামীকাল থেকে ৪ দিন ইন্টারনেটে ধীরগতির শঙ্কা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ঘোষণা বিএসসিপিএলসির ‘বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’: সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ মা হারালেন অভিনেত্রী জেরিন খান সেন্ট কিটস ও নেভিস ছোট দ্বীপ, বড় সৌন্দর্য শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ মনে করে বর্তমান সরকার

পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / 45

ছবি: সংগৃহীত

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় চায়না খাতুন নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে। নিহত চায়না খাতুন (৪০) ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে দুপক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এর পর রাত থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

আরও পড়ুন  খুলনার দাকোপে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৯

সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এ সময় রাজা গ্রুপের লোকজন তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং বাড়ি ভাঙচুর চালায়। এতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগনে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করা হয়। আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু উল্টো আমার ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে আমাদের গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। গুলিবর্ষণ বা নিহত হওয়ার বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই। কিছু ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুপক্ষই বিএনপির সমর্থক। পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকার যুবকরা গত রাতে ঝামেলায় জড়ায়। সকালে পশ্চিমপাড়া গ্রুপ লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে পাহারা দেয়, যা উত্তেজনা বাড়ায়। পরে পূর্বপাড়া গ্রুপ অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০

আপডেট সময় ০২:৫৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় চায়না খাতুন নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে। নিহত চায়না খাতুন (৪০) ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে দুপক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এর পর রাত থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

আরও পড়ুন  উত্তরাখণ্ডে তুষারধসের আঘাতে নিহত ৪, এখনো নিখোঁজ ৫ - উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার

সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এ সময় রাজা গ্রুপের লোকজন তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং বাড়ি ভাঙচুর চালায়। এতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগনে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করা হয়। আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু উল্টো আমার ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে আমাদের গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। গুলিবর্ষণ বা নিহত হওয়ার বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই। কিছু ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুপক্ষই বিএনপির সমর্থক। পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকার যুবকরা গত রাতে ঝামেলায় জড়ায়। সকালে পশ্চিমপাড়া গ্রুপ লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে পাহারা দেয়, যা উত্তেজনা বাড়ায়। পরে পূর্বপাড়া গ্রুপ অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।