সন্তানকে হাম ও ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচাতে যে দোয়া পড়বেন
- আপডেট সময় ০৩:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 23
সন্তান আল্লাহর দেওয়া এক মহামূল্যবান নিয়ামত ও আমানত। তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগ শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি মহান আল্লাহর দরবারে পানাহ ও দোয়া প্রার্থনা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, যা নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর বিশেষ হেফাজত ও সুরক্ষা লাভ করা যায়।
সুরক্ষার বিশেষ দোয়া
হাদিস শরিফে বর্ণিত অত্যন্ত কার্যকরী একটি দোয়া হলো:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদুররু মাআ ইসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: “আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।”
দোয়ার ফজিলত
হজরত উসমান ইবনে আফ্ফান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন— “যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দোয়াটি তিনবার পাঠ করবে, ওই দিন বা রাতে কোনো বিপদ-আপদ এবং সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮৮; জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮৮)
আমল করার নিয়ম
সময়: প্রতিদিন সকালে (ফজরের পর) এবং সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর) ৩ বার করে পাঠ করবেন।
পদ্ধতি: নিজের জন্য পড়ার পাশাপাশি সন্তানের সুরক্ষার জন্য দোয়াটি পড়ে তার গায়ে আলতো করে ফুঁ দিতে পারেন।
বিশ্বাস: দোয়া পড়ার সময় মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, রোগ দেওয়ার মালিক যেমন আল্লাহ, সুস্থতা দেওয়ার মালিকও তিনি।
সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি
ইসলামে দোয়ার পাশাপাশি জাগতিক উসিলা বা চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সন্তানের সুরক্ষায় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:
টিকা দান: হামের টিকা বা নিয়মিত ইমিউনাইজেশন নিশ্চিত করুন।
পরিচ্ছন্নতা: সন্তানের হাত ধোয়া এবং চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।
চিকিৎসা: রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

























