সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি
- আপডেট সময় ০৫:০১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 81
বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পরে এ বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে জাতীয় গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, সংবিধানে সমাজতন্ত্রের উল্লেখ থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮ ও ১০ অনুচ্ছেদ থেকে সমাজতন্ত্র বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নোটিশে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই। ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে যুক্ত হওয়ায় নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে এ অধিকারের সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন ও গণভোটের মাধ্যমে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে আইনি নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।






















