মেটার পেমেন্টে ,বিকাশের পরিকল্পনা
- আপডেট সময় ১২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 17
দেশের ই-কমার্স, এফ-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং খাতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধ ব্যবস্থায় দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান বিকাশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
এই সুবিধা এখনো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। তবে বাছাই করা কিছু ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বিকাশ ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি স্ক্রিনশটেও দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন ম্যানেজারের বিল পরিশোধ অপশনে প্রচলিত ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশের নামও যুক্ত হয়েছে, এবং কেউ কেউ এই মাধ্যমে সফলভাবে লেনদেনও সম্পন্ন করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। আন্তর্জাতিক কার্ড না থাকা, দ্বৈত মুদ্রা রূপান্তরের বাড়তি খরচ এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অনেকেই বিজ্ঞাপন চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতেন। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এই ব্যয়বহুল ও জটিল প্রক্রিয়া রীতিমতো প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয় মুদ্রায়, তুলনামূলক সহজ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যা দেশের ডিজিটাল ব্যবসা খাতের সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মেটা সাধারণত নতুন কোনো পেমেন্ট পদ্ধতি একবারে সবার জন্য চালু না করে ধাপে ধাপে সীমিত পরিসরে পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষা সফল হলে ধীরে ধীরে তা বিস্তৃত পরিসরে উন্মুক্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে এই সুবিধা সবার অ্যাকাউন্টে দেখা না গেলেও ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মেটার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধের সুবিধা কবে নাগাদ দেশের সব ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও, এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগকে বাংলাদেশের ডিজিটাল উদ্যোক্তা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।























