ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত বিমানবাহিনী ছেড়ে এবার যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন অভিনন্দন ‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’: কৃষিমন্ত্রী বিপিএল অনিশ্চিত, ক্রিকেটারদের সুখবর বিসিবি বসের

আজ বিশ্ব চা দিবস: এক কাপ চায়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভালোবাসা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • / 755

ছবি সংগৃহীত

 

আজ ২১ মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে চা প্রেমীদের অন্যতম প্রিয় দিন বিশ্ব চা দিবস। সকালবেলা ঘুম ভাঙার পর কিংবা ব্যস্ত কর্মদিবসে একটু প্রশান্তি খুঁজতে আমাদের ভরসা সেই পরিচিত সঙ্গী, এক কাপ চা। চাইলে আজকের দিনটিকে ঘিরে হতে পারে চা আড্ডা, কিংবা ঘরোয়া আয়োজনেই উদযাপন।

বিশ্বজুড়ে চায়ের জনপ্রিয়তা বিস্ময়কর। গবেষণা বলছে, প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রায় ২৫ হাজার কাপ চা পান করা হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় দুই বিলিয়নের বেশি কাপ চা শেষ করেন মানুষ। এমন পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, চা শুধু পানীয় নয় এ এক বিশ্বজনীন অনুভূতির নাম।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন ভেঙে শেষ ১৬-এ কানাডা

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে চা দিবস উদযাপন শুরু হয়। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া ও উগান্ডার মতো প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর উদ্যোগে এই দিনটি পালিত হয়। পরে ২০১৯ সালের ২১ মে বিশ্ব চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং একই বছরের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ এ সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেয়। এরপর ২০২০ সালের ২১ মে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্ব চা দিবস উদযাপন করে।

চায়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে চায়ের গ্রহণযোগ্যতা অসাধারণ, যারা মিলে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৭ শতাংশ। ধারণা করা হয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চা পানকারীর সংখ্যাও বাড়বে।

চায়ের ইতিহাসও কম রোমাঞ্চকর নয়। প্রাচীন চীন থেকেই চায়ের সূচনা। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে এক চীনা সম্রাট গাছতলায় বসে গরম পানি পান করছিলেন, হঠাৎ কিছু শুকনো পাতা সেই পানিতে পড়ে যায়। পাতা-ভেজা সেই পানীয় পান করে সম্রাট মুগ্ধ হয়ে যান। সেখান থেকেই গরম চায়ের সঙ্গে মানুষের বন্ধন শুরু বলে মনে করা হয়।

চা পাতার আধুনিক সংস্করণ আসে ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের উদ্ভিদ থেকে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতেই এশিয়ায় গরম চা পান শুরু হয়। তবে ইউরোপে চা পৌঁছায় ষোড়শ শতাব্দীর আগে নয়। ১৬০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের অভিজাত শ্রেণির মধ্যে চায়ের প্রেম জন্ম নেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ ভারতে চায়ের উৎপাদন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে এটি শুধু পানীয় নয়, একটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত শিল্পে রূপ নেয়।

আজকের দিনে তাই এক কাপ চা শুধু স্বাদের নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আন্তরিকতার গল্পও বয়ে আনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ বিশ্ব চা দিবস: এক কাপ চায়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভালোবাসা

আপডেট সময় ১২:১৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

 

আজ ২১ মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে চা প্রেমীদের অন্যতম প্রিয় দিন বিশ্ব চা দিবস। সকালবেলা ঘুম ভাঙার পর কিংবা ব্যস্ত কর্মদিবসে একটু প্রশান্তি খুঁজতে আমাদের ভরসা সেই পরিচিত সঙ্গী, এক কাপ চা। চাইলে আজকের দিনটিকে ঘিরে হতে পারে চা আড্ডা, কিংবা ঘরোয়া আয়োজনেই উদযাপন।

বিশ্বজুড়ে চায়ের জনপ্রিয়তা বিস্ময়কর। গবেষণা বলছে, প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রায় ২৫ হাজার কাপ চা পান করা হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় দুই বিলিয়নের বেশি কাপ চা শেষ করেন মানুষ। এমন পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, চা শুধু পানীয় নয় এ এক বিশ্বজনীন অনুভূতির নাম।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলকে রেকর্ড ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল আর্জেন্টিনা

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে চা দিবস উদযাপন শুরু হয়। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া ও উগান্ডার মতো প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর উদ্যোগে এই দিনটি পালিত হয়। পরে ২০১৯ সালের ২১ মে বিশ্ব চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং একই বছরের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ এ সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেয়। এরপর ২০২০ সালের ২১ মে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্ব চা দিবস উদযাপন করে।

চায়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে চায়ের গ্রহণযোগ্যতা অসাধারণ, যারা মিলে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৭ শতাংশ। ধারণা করা হয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চা পানকারীর সংখ্যাও বাড়বে।

চায়ের ইতিহাসও কম রোমাঞ্চকর নয়। প্রাচীন চীন থেকেই চায়ের সূচনা। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে এক চীনা সম্রাট গাছতলায় বসে গরম পানি পান করছিলেন, হঠাৎ কিছু শুকনো পাতা সেই পানিতে পড়ে যায়। পাতা-ভেজা সেই পানীয় পান করে সম্রাট মুগ্ধ হয়ে যান। সেখান থেকেই গরম চায়ের সঙ্গে মানুষের বন্ধন শুরু বলে মনে করা হয়।

চা পাতার আধুনিক সংস্করণ আসে ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের উদ্ভিদ থেকে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতেই এশিয়ায় গরম চা পান শুরু হয়। তবে ইউরোপে চা পৌঁছায় ষোড়শ শতাব্দীর আগে নয়। ১৬০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের অভিজাত শ্রেণির মধ্যে চায়ের প্রেম জন্ম নেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ ভারতে চায়ের উৎপাদন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে এটি শুধু পানীয় নয়, একটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত শিল্পে রূপ নেয়।

আজকের দিনে তাই এক কাপ চা শুধু স্বাদের নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আন্তরিকতার গল্পও বয়ে আনে।