তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০১:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 17
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশটির জাতীয় উন্নয়নে তারেক রহমান সরকারের উদ্যোগগুলোর প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী নিজের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান।
পোস্টে সানায়ে তাকাইচি লেখেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশের সরকারের দেশ গঠনের প্রচেষ্টায় তাঁর দেশ দৃঢ় সমর্থন দেবে। নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
তাকাইচি ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ নামে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করার বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তাকাইচি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানও জাপানের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গও উঠে আসে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করেছেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাপানকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির প্রতি জাপানের ধারাবাহিক সমর্থনের বিষয়টিও স্বীকার করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে জানান তাকাইচি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাকাইচি তাঁর পোস্টে বলেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং ঘোষিত যৌথ বিবৃতির আলোকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন।
দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠক বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।




















