ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

অরুণাচলে ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার একটি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরেখার ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে অবস্থান নিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে একাধিক স্থানে উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর।

সরকারি সূত্রের বরাতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের আসাফিলা এলাকায় দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় সীমান্তরেখা হিসেবে বিবেচিত অবস্থানের প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।

আরও পড়ুন  জানা গেল ট্যাংক দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনার পরিচয়

চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণ এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক সীমান্ত বৈঠক হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আগস্টে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি) বৈঠক এবং বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে অরুণাচলের বাচা-দামাই সীমান্ত এলাকায় প্রথমবারের মতো কোর কমান্ডার পর্যায়েও বৈঠক হয়।

রাজস্থানের আলোয়ারে এক অনুষ্ঠানে অবসরগামী আইটিবিপি প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর সীমান্ত সুরক্ষায় প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, চীনের মতো দেশকে মোকাবিলায় কেবল পুরোনো কৌশলের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে চীন অনেক এগিয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন ও ইরানে ড্রোন ব্যবহারের কৌশলের উদাহরণ তুলে ধরেন।

আইটিবিপি মহাপরিচালক আরও জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তের প্রতিটি অগ্রবর্তী চৌকিতে মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মাটির ওপরের স্থাপনা সহজেই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে এসব স্থানে স্থায়ী ভূগর্ভস্থ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

নিউজটি শেয়ার করুন

অরুণাচলে ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনা

আপডেট সময় ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার একটি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরেখার ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে অবস্থান নিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে একাধিক স্থানে উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর।

সরকারি সূত্রের বরাতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের আসাফিলা এলাকায় দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় সীমান্তরেখা হিসেবে বিবেচিত অবস্থানের প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।

আরও পড়ুন  ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে ২ দিন ধরে গোলাগুলি চলছে

চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণ এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক সীমান্ত বৈঠক হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আগস্টে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি) বৈঠক এবং বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে অরুণাচলের বাচা-দামাই সীমান্ত এলাকায় প্রথমবারের মতো কোর কমান্ডার পর্যায়েও বৈঠক হয়।

রাজস্থানের আলোয়ারে এক অনুষ্ঠানে অবসরগামী আইটিবিপি প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর সীমান্ত সুরক্ষায় প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, চীনের মতো দেশকে মোকাবিলায় কেবল পুরোনো কৌশলের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে চীন অনেক এগিয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন ও ইরানে ড্রোন ব্যবহারের কৌশলের উদাহরণ তুলে ধরেন।

আইটিবিপি মহাপরিচালক আরও জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তের প্রতিটি অগ্রবর্তী চৌকিতে মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মাটির ওপরের স্থাপনা সহজেই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে এসব স্থানে স্থায়ী ভূগর্ভস্থ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু