উত্তর ইউরোপজুড়ে প্রবল ঝড়: দেড় লাখের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন
- আপডেট সময় ১১:৩২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 18
ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে প্রচণ্ড শক্তিশালী দুটি ঝড়। এর প্রভাবে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেড় লাখের বেশি আবাসিক স্থাপনা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শত শত বিমান ফ্লাইট বাতিল এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রশাসন জানিয়েছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আঘাত হানা ‘বোয়েলো’ এবং ‘অস্টেন’ নামক দুটি শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৮২ হাজারেরও বেশি, ফ্রান্সে প্রায় ৬০ হাজার এবং জার্মানিতে অন্তত ১০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় আর্গাইল অ্যান্ড বিউট কাউন্সিল এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। প্রচণ্ড ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের তার উপড়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের এনার্জি নেটওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দুর্যোগের চরম মুহূর্তে দেশটিতে চার লাখেরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ‘স্টর্ম অস্টেন’-এর ছোবলে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ব্রাইটনের ঐতিহাসিক পুরোনো জেটির একটি অংশ ভেঙে উড়ে যায়। ২০০৩ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই জেটিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
ইউরোপে চলতি শরৎকালের প্রথম এই বড় আকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলেও। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দিনে আবহাওয়ায় এ ধরনের চরম বৈরিতা আরও বাড়তে পারে।
ফরাসি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনেদিস জানিয়েছে, শনিবার অস্টেন ঝড়ের তীব্রতা যখন চরমে ছিল, তখন ফ্রান্সের প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন ছিল। পরবর্তীতে রোববার দুপুরের দিকেও প্রায় ৫৯ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না, যার সিংহভাগই নরম্যান্ডি এবং ব্রিটানি অঞ্চলের। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় সচল করতে এনেদিসের ২৬০০ কর্মী ও ঠিকাদারের লোকজন দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রাইবুর্গ ইম ব্রাইসগাউ শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রোববার অস্টেনের প্রভাবে প্রায় ১০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ওই শহরের প্রধান হাসপাতালটি শুধুমাত্র জরুরি রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে বাধ্য হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় অঞ্চলটিতে মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। জার্মান পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার নাসটাটেন শহরে একটি শরৎকালীন মেলা চলাকালে ঝড়ের বাতাসে একটি নির্মাণাধীন মাচা ভেঙে পড়ে দুজন গুরুতর আহত হন।
জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, দেশটির উত্তর উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটারে উন্নীত হতে পারে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামেও ঝড়টি আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে শনিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গাছ ভেঙে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন।






















