ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ায় ভোট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 33

ছবি: সংগৃহীত

 

দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে সার্বিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা আলেকসান্দার ভুসিচের দল বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুর্নীতিবিরোধী ও কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলন এবার নির্বাচনে তাঁর ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

আগাম নির্বাচনে ভোট দিতে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলার কথা রয়েছে। নির্বাচনে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারা দেশে প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  কড়া নিরাপত্তায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন

গত সেপ্টেম্বরে ভুসিচ আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এ আন্দোলন সরকারি দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেছে।

প্রায় ৬০ লাখ মানুষের পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ায় ভুসিচের পরাজয় ঘটলে তা বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের ঘটনাও এ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসছে।

তবে সেপ্টেম্বরের ঘোষণার পর প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফেরার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভুসিচ এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেন অনেক ভোটার।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের জ্যেষ্ঠ ইউরোপ বিশ্লেষক মারিও বিকারস্কি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘স্টুডেন্ট লিস্ট ভুসিচের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গড়ে তোলায় সার্বিয়ার নির্বাচন দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।’

নির্বাচনী প্রচারে ভুসিচ পেনশন ও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং তরুণ দম্পতিদের ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রেখেছেন ভুসিচ। চীন সার্বিয়ার অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। রাশিয়া দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্র এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান সরবরাহকারী। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।

তবে ভুসিচের শাসনামলে ইইউর সঙ্গে সার্বিয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন ও দুর্নীতি দমনে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় জোটটির অসন্তোষ বেড়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো খুব বেশি প্রকাশ করা হয়নি।

আন্দোলনটির সমর্থিত ২৫০ জন প্রার্থীর তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অভিনেতা ও কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ব্যক্তিরা রয়েছেন। এ তালিকার নেতৃত্ব দিচ্ছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইলিয়া সার্দানোভিচ।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে ভুসিচের দল ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইপসোসের একটি জরিপে ভুসিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি ৪৭ শতাংশ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসমর্থিত প্রার্থীরা ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে অন্য কয়েকটি জরিপে ছাত্র আন্দোলনসমর্থিত প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।

মানবাধিকার সংগঠন ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নোভি সাদের রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে প্রাণহানির ঘটনার পর থেকে দেশে দমন-পীড়ন বেড়েছে। ওই দুর্ঘটনার জন্য সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয়েছিল। ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানী বেলগ্রেডের কেন্দ্রস্থলে ছাত্র আন্দোলনের প্রায় দেড় লাখ সমর্থক সমাবেশ করেন।

অন্যদিকে, ভুসিচ ও তাঁর দল দমন-পীড়ন, দুর্নীতি এবং বিরোধীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ভুসিচের দাবি, ছাত্র আন্দোলনটি ক্রোয়েশিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিদেশি এজেন্টদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ায় ভোট

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে সার্বিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা আলেকসান্দার ভুসিচের দল বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুর্নীতিবিরোধী ও কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলন এবার নির্বাচনে তাঁর ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

আগাম নির্বাচনে ভোট দিতে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলার কথা রয়েছে। নির্বাচনে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারা দেশে প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  কড়া নিরাপত্তায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন

গত সেপ্টেম্বরে ভুসিচ আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এ আন্দোলন সরকারি দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেছে।

প্রায় ৬০ লাখ মানুষের পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ায় ভুসিচের পরাজয় ঘটলে তা বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের ঘটনাও এ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসছে।

তবে সেপ্টেম্বরের ঘোষণার পর প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফেরার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভুসিচ এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেন অনেক ভোটার।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের জ্যেষ্ঠ ইউরোপ বিশ্লেষক মারিও বিকারস্কি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘স্টুডেন্ট লিস্ট ভুসিচের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গড়ে তোলায় সার্বিয়ার নির্বাচন দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।’

নির্বাচনী প্রচারে ভুসিচ পেনশন ও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং তরুণ দম্পতিদের ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রেখেছেন ভুসিচ। চীন সার্বিয়ার অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। রাশিয়া দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্র এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান সরবরাহকারী। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।

তবে ভুসিচের শাসনামলে ইইউর সঙ্গে সার্বিয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন ও দুর্নীতি দমনে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় জোটটির অসন্তোষ বেড়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো খুব বেশি প্রকাশ করা হয়নি।

আন্দোলনটির সমর্থিত ২৫০ জন প্রার্থীর তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অভিনেতা ও কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ব্যক্তিরা রয়েছেন। এ তালিকার নেতৃত্ব দিচ্ছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইলিয়া সার্দানোভিচ।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে ভুসিচের দল ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইপসোসের একটি জরিপে ভুসিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি ৪৭ শতাংশ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসমর্থিত প্রার্থীরা ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে অন্য কয়েকটি জরিপে ছাত্র আন্দোলনসমর্থিত প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।

মানবাধিকার সংগঠন ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নোভি সাদের রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে প্রাণহানির ঘটনার পর থেকে দেশে দমন-পীড়ন বেড়েছে। ওই দুর্ঘটনার জন্য সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয়েছিল। ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানী বেলগ্রেডের কেন্দ্রস্থলে ছাত্র আন্দোলনের প্রায় দেড় লাখ সমর্থক সমাবেশ করেন।

অন্যদিকে, ভুসিচ ও তাঁর দল দমন-পীড়ন, দুর্নীতি এবং বিরোধীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ভুসিচের দাবি, ছাত্র আন্দোলনটি ক্রোয়েশিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিদেশি এজেন্টদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু।