ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

অসম যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, দাবি সেনাপ্রধানের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামরিক সক্ষমতা জোরদার করেছে ইরান। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তাঁর দাবি, যেকোনো পরিস্থিতিতে অসম যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী ড্রোন উৎপাদনকারী সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন হাতামি।

তিনি জানান, ইরানের সেনাবাহিনী ড্রোন উৎপাদন, সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। এ খাতে নিয়োজিত সামরিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংঘাতের সময় এসব প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।

আরও পড়ুন  ইরানের বন্দর শহীদ রাজাইয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৪০, আহত ১২০০

আধুনিক যুদ্ধে চালকবিহীন অস্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে হাতামি বলেন, ড্রোন, চালকবিহীন নৌযান এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান।

সামরিক পরিভাষায় অসম যুদ্ধ বলতে এমন সংঘাতকে বোঝায়, যেখানে প্রতিপক্ষের সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি, অস্ত্র ও সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তুলনামূলক দুর্বল পক্ষ সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধের পরিবর্তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দ্রুত আঘাত হেনে সরে পড়া এবং সমুদ্রপথে আক্রমণের মতো কৌশল ব্যবহার করতে পারে।

ইরানের সামরিক কৌশলে ড্রোনের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎপাদন ও সামরিক অভিযানে সেগুলো ব্যবহারের সক্ষমতাকে দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বললেও ড্রোন উৎপাদন কতটা বাড়ানো হয়েছে, নতুন কী ধরনের সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে কিংবা সম্ভাব্য যুদ্ধে এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি হাতামি।

ইরানের সামরিক কাঠামোয় নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরও (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্য ইরানের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে দেশটির আনুষ্ঠানিক দাবি। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া এ বক্তব্যের ভিত্তিতে ইরানের প্রকৃত যুদ্ধক্ষমতা বা সম্ভাব্য সংঘাতে সাফল্যের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না।

সূত্র: আল-জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

অসম যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, দাবি সেনাপ্রধানের

আপডেট সময় ১০:২০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামরিক সক্ষমতা জোরদার করেছে ইরান। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তাঁর দাবি, যেকোনো পরিস্থিতিতে অসম যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী ড্রোন উৎপাদনকারী সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন হাতামি।

তিনি জানান, ইরানের সেনাবাহিনী ড্রোন উৎপাদন, সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। এ খাতে নিয়োজিত সামরিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংঘাতের সময় এসব প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।

আরও পড়ুন  ইরানের ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার আমিরাত

আধুনিক যুদ্ধে চালকবিহীন অস্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে হাতামি বলেন, ড্রোন, চালকবিহীন নৌযান এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান।

সামরিক পরিভাষায় অসম যুদ্ধ বলতে এমন সংঘাতকে বোঝায়, যেখানে প্রতিপক্ষের সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি, অস্ত্র ও সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তুলনামূলক দুর্বল পক্ষ সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধের পরিবর্তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দ্রুত আঘাত হেনে সরে পড়া এবং সমুদ্রপথে আক্রমণের মতো কৌশল ব্যবহার করতে পারে।

ইরানের সামরিক কৌশলে ড্রোনের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎপাদন ও সামরিক অভিযানে সেগুলো ব্যবহারের সক্ষমতাকে দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বললেও ড্রোন উৎপাদন কতটা বাড়ানো হয়েছে, নতুন কী ধরনের সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে কিংবা সম্ভাব্য যুদ্ধে এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি হাতামি।

ইরানের সামরিক কাঠামোয় নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরও (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্য ইরানের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে দেশটির আনুষ্ঠানিক দাবি। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া এ বক্তব্যের ভিত্তিতে ইরানের প্রকৃত যুদ্ধক্ষমতা বা সম্ভাব্য সংঘাতে সাফল্যের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না।

সূত্র: আল-জাজিরা