ইরান সীমান্তে হঠাৎ ইসরাইলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, নেপথ্যে কী?
- আপডেট সময় ০৪:৪০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 23
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সীমান্তের কাছে ডজনখানেক যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে আবার ফিরিয়ে নিয়েছে ইসরাইল। গত সোমবারের এ অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার খবরের মধ্যে এই সামরিক তৎপরতা ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এই অভিযান ছিল ইরানকে সামরিক শক্তির বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা। তবে এটি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সোমবারই ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন হেগসেথ।
সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরানের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়। তাদের উড্ডয়নপথ ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পথের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ইরানের সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর বিমানগুলো দিক পরিবর্তন করে ইসরাইলে ফিরে আসে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযানটিকে নিয়মিত সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে সতর্ক করা এবং ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা। তবে এ ধরনের তৎপরতা থেকে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ইরান যদি যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতিকে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা পদক্ষেপ নিত, তাহলে পরিস্থিতি নতুন করে যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারত।
অভিযানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ভিন্ন ধরনের সন্দেহও তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুদ্ধবিমানগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারবে।
সূত্রগুলোর দাবি, অভিযান শুরুর আগেই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে জানিয়েছিল। ইসরাইল এটিকে প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিল, নির্বাচনের আগে ইরানকে ইসরাইলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতেই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, ইসরাইল হয়তো আশা করেছিল, ইরান যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর যুক্তি তৈরি হতে পারত।























