ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পড়তে জানেন না, রেডিও শুনে ৭১ বছর বয়সে হাফেজা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

ছবি: সংগৃহীত

বয়স ৭০ পেরিয়েছে। জানেন না পড়তে বা লিখতে। ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনতেন। সেখান থেকেই পবিত্র কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। আর সেই ভালোবাসা থেকেই শুরু করেন কোরআন মুখস্থ করার চেষ্টা। অবশেষে ৭১ বছর বয়সে এসে পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন মিশরের সানা আবদেল সাত্তার নামের এক নারী। অন্যদের মতো সরাসরি কোরআন গ্রন্থ পড়ে হাফেজা হননি তিনি। শুনে শুনে, মনে রেখে এবং বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তিনি পুরো কোরআন নিজের বুকে ধারণ করেছেন।

ভারতীয় উর্দু সংবাদমাধ্যম ইউএনএ নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার এই অনুপ্রেরণাদায়ী কোরআন হিফজের গল্প। সানা আবদেল সাত্তার মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের শোহাদা এলাকার মিত শাহালা গ্রামের বাসিন্দা। ৭১ বছর বয়সে তিনি পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ পারা কোরআন পুনরাবৃত্তি করেন।

রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শোনা ছিল তার কোরআনের সঙ্গে পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম। কোরআন হিফজ করার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০ বছর বয়সে। তবে পথটি ছিল বেশ কঠিন। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। তিন সন্তানের লালন-পালনের পাশাপাশি পরিবারের নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাকে। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী। এ সময় কোরআন হিফজ করাও থেমে যায়। স্বামীর মৃত্যুর পরও নানা কারণে কিছু সময়ের জন্য তার হিফজের যাত্রা বন্ধ ছিল।

তবে কোরআন হিফজের প্রবল ইচ্ছা থেকে সরে যাননি সানা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি আবার কোরআনের কাছে ফিরে আসেন। এমন মানুষদেরও খুঁজে নেন, যাদের সঙ্গে বসে কোরআন মুখস্থ করা এবং মুখস্থ করা অংশগুলো পরস্পরকে শুনিয়ে পুনরাবৃত্তি করা যায়।

বর্তমানে ২০ জনের বেশি নারীর সঙ্গে নিয়মিত কোরআনের মজলিসে অংশ নেন তিনি। বিভিন্ন বয়সী এসব নারী পরস্পরকে কোরআন শুনিয়ে থাকেন এবং মুখস্থ করা অংশ পুনরাবৃত্তি করেন। তার এক প্রতিবেশী ও বান্ধবীও পড়তে বা লিখতে জানেন না। তিনিও পুরো কোরআন হিফজ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পড়তে জানেন না, রেডিও শুনে ৭১ বছর বয়সে হাফেজা

আপডেট সময় ০১:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বয়স ৭০ পেরিয়েছে। জানেন না পড়তে বা লিখতে। ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনতেন। সেখান থেকেই পবিত্র কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। আর সেই ভালোবাসা থেকেই শুরু করেন কোরআন মুখস্থ করার চেষ্টা। অবশেষে ৭১ বছর বয়সে এসে পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন মিশরের সানা আবদেল সাত্তার নামের এক নারী। অন্যদের মতো সরাসরি কোরআন গ্রন্থ পড়ে হাফেজা হননি তিনি। শুনে শুনে, মনে রেখে এবং বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তিনি পুরো কোরআন নিজের বুকে ধারণ করেছেন।

ভারতীয় উর্দু সংবাদমাধ্যম ইউএনএ নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার এই অনুপ্রেরণাদায়ী কোরআন হিফজের গল্প। সানা আবদেল সাত্তার মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের শোহাদা এলাকার মিত শাহালা গ্রামের বাসিন্দা। ৭১ বছর বয়সে তিনি পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ পারা কোরআন পুনরাবৃত্তি করেন।

রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শোনা ছিল তার কোরআনের সঙ্গে পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম। কোরআন হিফজ করার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০ বছর বয়সে। তবে পথটি ছিল বেশ কঠিন। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। তিন সন্তানের লালন-পালনের পাশাপাশি পরিবারের নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাকে। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী। এ সময় কোরআন হিফজ করাও থেমে যায়। স্বামীর মৃত্যুর পরও নানা কারণে কিছু সময়ের জন্য তার হিফজের যাত্রা বন্ধ ছিল।

তবে কোরআন হিফজের প্রবল ইচ্ছা থেকে সরে যাননি সানা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি আবার কোরআনের কাছে ফিরে আসেন। এমন মানুষদেরও খুঁজে নেন, যাদের সঙ্গে বসে কোরআন মুখস্থ করা এবং মুখস্থ করা অংশগুলো পরস্পরকে শুনিয়ে পুনরাবৃত্তি করা যায়।

বর্তমানে ২০ জনের বেশি নারীর সঙ্গে নিয়মিত কোরআনের মজলিসে অংশ নেন তিনি। বিভিন্ন বয়সী এসব নারী পরস্পরকে কোরআন শুনিয়ে থাকেন এবং মুখস্থ করা অংশ পুনরাবৃত্তি করেন। তার এক প্রতিবেশী ও বান্ধবীও পড়তে বা লিখতে জানেন না। তিনিও পুরো কোরআন হিফজ করেছেন।