ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে ৭৩ মুসলিম পরিবারের বাড়ি ভাঙায় হাইকোর্টের প্রশ্ন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 14

ছবি সংগৃহীত

 

আসামের গোয়ালপাড়ায় ৭৩টি মুসলিম পরিবারের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গৌহাটি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কৃষিজমিতে থাকা এসব বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে অবৈধ ও অননুমোদিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না দেওয়াকে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী বলেও আদালত উল্লেখ করেছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া জেলা প্রশাসন ৭৩টি বাড়ি ভেঙে দেয়। এর দুই দিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কৃষিজমিতে নির্মিত বাড়ি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। নোটিশে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ও রাজস্ব বিধান এবং ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের বিধানের উল্লেখ ছিল।

আরও পড়ুন  যুদ্ধে ভারতের ৮৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, পাকিস্তানের চেয়ে ২২ গুণ বেশি

এ ঘটনায় ২১ জন বাসিন্দা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাদের অভিযোগ, বাড়ি ভাঙার আগে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কিংবা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। মামলাটি শুনানি করেন বিচারপতি দেবাশিস বড়ুয়া।

শুনানিতে আদালত ২০১৫ সালের আসাম কৃষিজমি পুনঃশ্রেণীকরণ ও অকৃষি কাজে হস্তান্তর আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানও বিবেচনায় নেয়। আদালত উল্লেখ করে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমিতে নিজের বসবাসের জন্য দুই তলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণে ডেপুটি কমিশনারের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে ভেঙে দেওয়া প্রতিটি বাড়ি ওই আইনের সব শর্ত পূরণ করেছিল কি না, সে বিষয়ে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

আদালত জানতে চেয়েছে, ব্যক্তিগত জমিতে থাকা বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কী ধরনের ‘আসন্ন বিপদ’ তৈরি হয়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশ দিয়ে বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সে বিষয়েও প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

১১ সেপ্টেম্বরের আদেশে আদালত জানায়, প্রশাসনের দেওয়া নথিপত্র ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনায় এমন কোনো আসন্ন বিপদের পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি, যা ব্যক্তিগত জমিতে বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখায়। আদালত প্রাথমিকভাবে ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের ক্ষমতা ব্যবহারে অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে।

এ বিষয়ে গোয়ালপাড়ার জেলা প্রশাসক ও মাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তাকে পৃথক হলফনামা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বাড়িঘর ভাঙার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে বাসিন্দাদের অতিরিক্ত হলফনামা দাখিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১৩ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।

তবে প্রশাসনের দাবি, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, জমিগুলো তাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। ফলে জমির ব্যবহার ও বাড়ি নির্মাণের বৈধতার পাশাপাশি উচ্ছেদে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে ৭৩ মুসলিম পরিবারের বাড়ি ভাঙায় হাইকোর্টের প্রশ্ন

আপডেট সময় ০২:৫৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আসামের গোয়ালপাড়ায় ৭৩টি মুসলিম পরিবারের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গৌহাটি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কৃষিজমিতে থাকা এসব বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে অবৈধ ও অননুমোদিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না দেওয়াকে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী বলেও আদালত উল্লেখ করেছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া জেলা প্রশাসন ৭৩টি বাড়ি ভেঙে দেয়। এর দুই দিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কৃষিজমিতে নির্মিত বাড়ি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। নোটিশে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ও রাজস্ব বিধান এবং ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের বিধানের উল্লেখ ছিল।

আরও পড়ুন  চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল আজ: তৃতীয় সৌভাগ্যের খোঁজে নিউজিল্যান্ড, ভারতের শাপমোচনের লড়াই

এ ঘটনায় ২১ জন বাসিন্দা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাদের অভিযোগ, বাড়ি ভাঙার আগে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কিংবা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। মামলাটি শুনানি করেন বিচারপতি দেবাশিস বড়ুয়া।

শুনানিতে আদালত ২০১৫ সালের আসাম কৃষিজমি পুনঃশ্রেণীকরণ ও অকৃষি কাজে হস্তান্তর আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানও বিবেচনায় নেয়। আদালত উল্লেখ করে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমিতে নিজের বসবাসের জন্য দুই তলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণে ডেপুটি কমিশনারের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে ভেঙে দেওয়া প্রতিটি বাড়ি ওই আইনের সব শর্ত পূরণ করেছিল কি না, সে বিষয়ে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

আদালত জানতে চেয়েছে, ব্যক্তিগত জমিতে থাকা বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কী ধরনের ‘আসন্ন বিপদ’ তৈরি হয়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশ দিয়ে বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সে বিষয়েও প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

১১ সেপ্টেম্বরের আদেশে আদালত জানায়, প্রশাসনের দেওয়া নথিপত্র ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনায় এমন কোনো আসন্ন বিপদের পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি, যা ব্যক্তিগত জমিতে বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখায়। আদালত প্রাথমিকভাবে ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের ক্ষমতা ব্যবহারে অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে।

এ বিষয়ে গোয়ালপাড়ার জেলা প্রশাসক ও মাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তাকে পৃথক হলফনামা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বাড়িঘর ভাঙার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে বাসিন্দাদের অতিরিক্ত হলফনামা দাখিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১৩ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।

তবে প্রশাসনের দাবি, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, জমিগুলো তাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। ফলে জমির ব্যবহার ও বাড়ি নির্মাণের বৈধতার পাশাপাশি উচ্ছেদে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।