ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি সংগৃহীত

 

সুদানের পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলে একটি সোনার খনির একাধিক সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ৬০ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এল-নাহুদ শহরের কাছে আল-জারা সোনার খনিতে ধসের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া দুই শ্রমিক।

তবে খনির ভেতরে আরও কতজন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকাজে থাকা শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননে ছয়জন নিহত

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে বলেন, রাতভর সহকর্মীদের সঙ্গে তারা উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। সোনা উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ ও জীবিতদের খোঁজ করেছেন তারা।

উদ্ধারকাজে থাকা শ্রমিকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও পাথর ও মাটি সরাতে গিয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে দ্রুত ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

আল-জারা খনির বাইরে মঙ্গলবার কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক আল-আমিন সুলাইমান। তিনি বলেন, ওই এলাকার খনিগুলোর সুড়ঙ্গগুলো পরস্পরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গেও ধস নামার ঝুঁকি থাকে। আল-জারা খনিতেও একইভাবে একের পর এক সুড়ঙ্গ ধসে পড়েছে বলে জানান তিনি।

সুলাইমানের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও অনেকে মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তিনি।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধে দুই পক্ষের অর্থের বড় একটি উৎস সোনা শিল্প। একই সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষ বিদেশি সহায়তাও পেয়ে থাকে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত দেশটির আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় জীবিকার সন্ধানে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে সোনা উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদান থেকে পাচার বা রপ্তানি হওয়া সোনার প্রায় পুরোটাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাধ্যমে যায়। তবে আরএসএফকে ব্যাপকভাবে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউএই।

আল-জারার মতো পরিত্যক্ত খনি ও অনানুষ্ঠানিক এলাকায় স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে সোনা উত্তোলন করা হয়। দেশটির উৎপাদিত সোনার বড় অংশই এ ধরনের ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনি থেকে আসে।

পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশের দারফুর অঞ্চলও আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সেখানে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। আরএসএফ একটি সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা এখনও সীমিত।

এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম সুদানের বিপুলসংখ্যক মানুষ টিকে থাকার জন্য মানবিক সহায়তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬০

আপডেট সময় ০৮:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সুদানের পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলে একটি সোনার খনির একাধিক সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ৬০ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এল-নাহুদ শহরের কাছে আল-জারা সোনার খনিতে ধসের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া দুই শ্রমিক।

তবে খনির ভেতরে আরও কতজন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকাজে থাকা শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন  বেলুচিস্তানে ট্রেনে সশস্ত্র হামলা: নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৮০ যাত্রী উদ্ধার, নিহত ১৩

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে বলেন, রাতভর সহকর্মীদের সঙ্গে তারা উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। সোনা উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ ও জীবিতদের খোঁজ করেছেন তারা।

উদ্ধারকাজে থাকা শ্রমিকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও পাথর ও মাটি সরাতে গিয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে দ্রুত ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

আল-জারা খনির বাইরে মঙ্গলবার কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক আল-আমিন সুলাইমান। তিনি বলেন, ওই এলাকার খনিগুলোর সুড়ঙ্গগুলো পরস্পরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গেও ধস নামার ঝুঁকি থাকে। আল-জারা খনিতেও একইভাবে একের পর এক সুড়ঙ্গ ধসে পড়েছে বলে জানান তিনি।

সুলাইমানের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও অনেকে মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তিনি।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধে দুই পক্ষের অর্থের বড় একটি উৎস সোনা শিল্প। একই সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষ বিদেশি সহায়তাও পেয়ে থাকে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত দেশটির আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় জীবিকার সন্ধানে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে সোনা উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদান থেকে পাচার বা রপ্তানি হওয়া সোনার প্রায় পুরোটাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাধ্যমে যায়। তবে আরএসএফকে ব্যাপকভাবে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউএই।

আল-জারার মতো পরিত্যক্ত খনি ও অনানুষ্ঠানিক এলাকায় স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে সোনা উত্তোলন করা হয়। দেশটির উৎপাদিত সোনার বড় অংশই এ ধরনের ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনি থেকে আসে।

পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশের দারফুর অঞ্চলও আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সেখানে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। আরএসএফ একটি সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা এখনও সীমিত।

এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম সুদানের বিপুলসংখ্যক মানুষ টিকে থাকার জন্য মানবিক সহায়তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।