ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দীর্ঘদিন জ্বালানির আর্থিক চাপ বহন করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর: সংসদে বিল পাস কুয়েতের তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোন হামলা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা চলন্ত লরিতে আগুন, চালকের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল ফিলিং স্টেশন দেশে হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যু মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনোয়ারুল হক আর নেই শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির অভিযোগ গঠন শুনানি ১৯ এপ্রিল রাত ৭টা পর্যন্ত চলবে বিকিকিনি: নতুন সময়সীমা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হাম দমনে বিশেষ টিকাদান শুরু: অতীতের অবহেলাকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসি-র ‘অদৃশ্য টোল’ আদায়, বিপাকে বিশ্ব বাণিজ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 27

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক ধরনের ‘অদৃশ্য শুল্ক’ বা টোল ব্যবস্থা চালু করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেহরানের এই কঠোর আধিপত্যের ফলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। গোয়েন্দা সূত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসি-র নিয়ন্ত্রণাধীন এই টোলবুথ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের পরিপন্থী হলেও ইরান একে তাদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে দাবি করছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান সরাসরি ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ অথবা ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’তে এই টোল বা ফি আদায় করছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করার বিনিময়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১ ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করছে আইআরজিসি। এই প্রক্রিয়ায় লেনদেন সম্পন্ন হলে তবেই জাহাজগুলোকে ইরানের টহল জাহাজের নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বাণিজ্য তদন্ত: বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের শুল্ক অস্থিরতার শঙ্কা

আইআরজিসি-র এই নতুন নীতিমালায় জাহাজ মালিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের প্রকৃত মালিকানা, ক্রু সদস্যদের বিস্তারিত তালিকা এবং গন্তব্যস্থলের তথ্য। এজাহারে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, কোনো জাহাজের সঙ্গে ইসরায়েল বা আমেরিকার নূন্যতম সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সেটিকে ওই জলপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র ইরান বা তাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ড্রোন হামলা এবং অতর্কিত অভিযানের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর বিমা খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অনেক কোম্পানি আইনি জটিলতা এড়াতে ও নিরাপদ থাকতে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজের সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ ও ‘সমুদ্র দস্যুতার আধুনিক রূপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের আশ্বাস দিলেও হরমুজ প্রণালির এই চলমান অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের প্রধান সরবরাহ পথ অবরুদ্ধ বা অনিরাপদ হয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের এই সম্ভাব্য অতর্কিত হামলা এবং দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসি-র ‘অদৃশ্য টোল’ আদায়, বিপাকে বিশ্ব বাণিজ্য

আপডেট সময় ১২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক ধরনের ‘অদৃশ্য শুল্ক’ বা টোল ব্যবস্থা চালু করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেহরানের এই কঠোর আধিপত্যের ফলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। গোয়েন্দা সূত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসি-র নিয়ন্ত্রণাধীন এই টোলবুথ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের পরিপন্থী হলেও ইরান একে তাদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে দাবি করছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান সরাসরি ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ অথবা ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’তে এই টোল বা ফি আদায় করছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করার বিনিময়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১ ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করছে আইআরজিসি। এই প্রক্রিয়ায় লেনদেন সম্পন্ন হলে তবেই জাহাজগুলোকে ইরানের টহল জাহাজের নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন  সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন কানাডার বাণিজ্য প্রতিনিধিদল

আইআরজিসি-র এই নতুন নীতিমালায় জাহাজ মালিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের প্রকৃত মালিকানা, ক্রু সদস্যদের বিস্তারিত তালিকা এবং গন্তব্যস্থলের তথ্য। এজাহারে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, কোনো জাহাজের সঙ্গে ইসরায়েল বা আমেরিকার নূন্যতম সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সেটিকে ওই জলপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র ইরান বা তাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ড্রোন হামলা এবং অতর্কিত অভিযানের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর বিমা খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অনেক কোম্পানি আইনি জটিলতা এড়াতে ও নিরাপদ থাকতে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজের সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ ও ‘সমুদ্র দস্যুতার আধুনিক রূপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের আশ্বাস দিলেও হরমুজ প্রণালির এই চলমান অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের প্রধান সরবরাহ পথ অবরুদ্ধ বা অনিরাপদ হয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের এই সম্ভাব্য অতর্কিত হামলা এবং দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।