ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ইরানের ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা, নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 660

ছবি সংগৃহীত

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পরমাণু সরঞ্জাম গোপনে সরিয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

মার্কিন সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো হয়নি। তবে ইরান বিষয়টি গোপন রাখতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  ইরানের দুই তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

অন্যদিকে, ১৩ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নিচ্ছে।

এরপরই স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক দুদিন আগে ফোরদো স্থাপনার দিকে ১৬টি কার্গো ট্রাক প্রবেশ করে এবং হামলার আগের দিনই তারা এলাকা ত্যাগ করে।

মহাপরিচালক গ্রোসি সিএনএনকে জানান, আইএইএর পরিদর্শকরা সর্বশেষ ১০ জুন ইরানে ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করেছিলেন। এরপর থেকে ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরমাণু বিশেষজ্ঞ কেলসি ড্যাভেনপোর্ট জানান, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘স্কুবা ট্যাংক’ আকৃতির মোবাইল ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়, যেগুলো সহজেই স্থানান্তরযোগ্য। তার মতে, এই ক্যানিস্টারগুলো এমনসব স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যেখানে কোনো সামরিক অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, যদি ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকে, তবে তা খুঁজে বের করা কঠিন হবে এবং এতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে, আইএইএর মহাপরিচালক বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, ইরানের সব সেন্ট্রিফিউজের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দাদের পূর্ণ ধারণা নেই। মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ইরানের পরমাণু উপকরণের পূর্ণ চিত্র তাদের জানা নেই।

‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’ নামক পারমাণবিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরান বেশ কয়েক বছর ধরেই আইএইএর নজরদারির বাইরে উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ মজুত করছে।

পরমাণু বিশ্লেষক ড্যাভেনপোর্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরান হয়তো ইউরেনিয়াম এমন স্থানে সরিয়ে ফেলেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা, নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১২:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পরমাণু সরঞ্জাম গোপনে সরিয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

মার্কিন সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো হয়নি। তবে ইরান বিষয়টি গোপন রাখতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে হস্তক্ষেপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

অন্যদিকে, ১৩ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নিচ্ছে।

এরপরই স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক দুদিন আগে ফোরদো স্থাপনার দিকে ১৬টি কার্গো ট্রাক প্রবেশ করে এবং হামলার আগের দিনই তারা এলাকা ত্যাগ করে।

মহাপরিচালক গ্রোসি সিএনএনকে জানান, আইএইএর পরিদর্শকরা সর্বশেষ ১০ জুন ইরানে ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করেছিলেন। এরপর থেকে ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরমাণু বিশেষজ্ঞ কেলসি ড্যাভেনপোর্ট জানান, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘স্কুবা ট্যাংক’ আকৃতির মোবাইল ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়, যেগুলো সহজেই স্থানান্তরযোগ্য। তার মতে, এই ক্যানিস্টারগুলো এমনসব স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যেখানে কোনো সামরিক অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, যদি ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকে, তবে তা খুঁজে বের করা কঠিন হবে এবং এতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে, আইএইএর মহাপরিচালক বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, ইরানের সব সেন্ট্রিফিউজের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দাদের পূর্ণ ধারণা নেই। মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ইরানের পরমাণু উপকরণের পূর্ণ চিত্র তাদের জানা নেই।

‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’ নামক পারমাণবিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরান বেশ কয়েক বছর ধরেই আইএইএর নজরদারির বাইরে উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ মজুত করছে।

পরমাণু বিশ্লেষক ড্যাভেনপোর্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরান হয়তো ইউরেনিয়াম এমন স্থানে সরিয়ে ফেলেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথকে আরও ত্বরান্বিত করবে।