ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বরিশালে ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ! ইরান যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমবে , শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি বিশ্বকে বিপদমুক্ত করতে রুশ-চীন জোট ‘আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু পৃথিবী চায়’: সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী স্পেনের নজিরবিহীন ঘোষণা: ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু নরসিংদীতে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু যাত্রাবাড়ীতে তরুণীর অভিযোগে ধরা পড়ল সিরিয়াল প্রতারক আলবেনিয়া—ইউরোপের লুকানো সৌন্দর্য ও ইতিহাসের দেশ বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা পৌনে ২ লাখের বেশি, বাড়ানো হচ্ছে না ভাতা ৫ লাখ পদে নিয়োগ ও পেপাল চালুর উদ্যোগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানের ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা, নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 222

ছবি সংগৃহীত

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পরমাণু সরঞ্জাম গোপনে সরিয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

মার্কিন সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো হয়নি। তবে ইরান বিষয়টি গোপন রাখতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ৯৬ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য

অন্যদিকে, ১৩ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নিচ্ছে।

এরপরই স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক দুদিন আগে ফোরদো স্থাপনার দিকে ১৬টি কার্গো ট্রাক প্রবেশ করে এবং হামলার আগের দিনই তারা এলাকা ত্যাগ করে।

মহাপরিচালক গ্রোসি সিএনএনকে জানান, আইএইএর পরিদর্শকরা সর্বশেষ ১০ জুন ইরানে ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করেছিলেন। এরপর থেকে ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরমাণু বিশেষজ্ঞ কেলসি ড্যাভেনপোর্ট জানান, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘স্কুবা ট্যাংক’ আকৃতির মোবাইল ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়, যেগুলো সহজেই স্থানান্তরযোগ্য। তার মতে, এই ক্যানিস্টারগুলো এমনসব স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যেখানে কোনো সামরিক অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, যদি ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকে, তবে তা খুঁজে বের করা কঠিন হবে এবং এতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে, আইএইএর মহাপরিচালক বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, ইরানের সব সেন্ট্রিফিউজের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দাদের পূর্ণ ধারণা নেই। মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ইরানের পরমাণু উপকরণের পূর্ণ চিত্র তাদের জানা নেই।

‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’ নামক পারমাণবিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরান বেশ কয়েক বছর ধরেই আইএইএর নজরদারির বাইরে উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ মজুত করছে।

পরমাণু বিশ্লেষক ড্যাভেনপোর্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরান হয়তো ইউরেনিয়াম এমন স্থানে সরিয়ে ফেলেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা, নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১২:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পরমাণু সরঞ্জাম গোপনে সরিয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

মার্কিন সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো হয়নি। তবে ইরান বিষয়টি গোপন রাখতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অন্যদিকে, ১৩ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নিচ্ছে।

এরপরই স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক দুদিন আগে ফোরদো স্থাপনার দিকে ১৬টি কার্গো ট্রাক প্রবেশ করে এবং হামলার আগের দিনই তারা এলাকা ত্যাগ করে।

মহাপরিচালক গ্রোসি সিএনএনকে জানান, আইএইএর পরিদর্শকরা সর্বশেষ ১০ জুন ইরানে ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করেছিলেন। এরপর থেকে ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরমাণু বিশেষজ্ঞ কেলসি ড্যাভেনপোর্ট জানান, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘স্কুবা ট্যাংক’ আকৃতির মোবাইল ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়, যেগুলো সহজেই স্থানান্তরযোগ্য। তার মতে, এই ক্যানিস্টারগুলো এমনসব স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যেখানে কোনো সামরিক অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, যদি ইউরেনিয়াম গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকে, তবে তা খুঁজে বের করা কঠিন হবে এবং এতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে, আইএইএর মহাপরিচালক বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, ইরানের সব সেন্ট্রিফিউজের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দাদের পূর্ণ ধারণা নেই। মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ইরানের পরমাণু উপকরণের পূর্ণ চিত্র তাদের জানা নেই।

‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’ নামক পারমাণবিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরান বেশ কয়েক বছর ধরেই আইএইএর নজরদারির বাইরে উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ মজুত করছে।

পরমাণু বিশ্লেষক ড্যাভেনপোর্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরান হয়তো ইউরেনিয়াম এমন স্থানে সরিয়ে ফেলেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথকে আরও ত্বরান্বিত করবে।