ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু

চলতি মাসে সাগরে নৌকাডুবিতে ৪২৭ রোহিঙ্গার মর্মান্তিক মৃত্যু: ইউএনএইচসিআর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 457

ছবি সংগৃহীত

 

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে নিরাপদ জীবনের আশায় যাত্রা করে প্রাণ হারালেন অন্তত ৪২৭ জন রোহিঙ্গা। মিয়ানমার উপকূলে দুটি পৃথক নৌকাডুবির ঘটনায় এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চলতি মে মাসের শুরুতে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর নিশ্চিত করেছে এই মর্মান্তিক খবর।

শুক্রবার (২৩ মে) রাতে ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজারের যোগাযোগ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দুটি নৌকায় মোট ৫১৪ জন রোহিঙ্গা ছিলেন। এর মধ্যে প্রথম নৌকাটি ৯ মে ডুবে যায়, যেখানে ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা করেছিলেন। বেঁচে গেছেন মাত্র ৬৬ জন। পরদিন ১০ মে দ্বিতীয় নৌকাটি ডুবে যায়, যেখানে ছিলেন ২৪৭ জন রোহিঙ্গা। সেখান থেকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে মাত্র ২১ জনকে।

আরও পড়ুন  বড়লেখা সীমান্তে ১৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি

ইউএনএইচসিআর বলছে, এই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে প্রতি পাঁচজন যাত্রীর মধ্যে একজনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে।

এছাড়াও আরও একটি নৌকায় ১৮৮ জন রোহিঙ্গা ছিলেন, যেটিকে ১৪ মে মিয়ানমার উপকূলে আটকে দেওয়া হয়। ইউএনএইচসিআর বলছে, বর্তমানে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কার্যালয়ের পরিচালক হাই কিয়ং জুন জানান, রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সহায়তা তহবিল সংকোচনের ফলে তারা মর্যাদাসম্পন্ন জীবনের খোঁজে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় সমুদ্র এখন আরও উত্তাল, যা যাত্রাকে প্রাণঘাতী করে তুলেছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের আওতায় একটি মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি এড়াতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

২০২৫ সালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর ৩৮৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার তহবিল চাইলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা মো. জোয়ের বলেন, দালালদের মিথ্যা আশ্বাসে পড়ে রোহিঙ্গারা সাগর পাড়ি দিচ্ছেন। দালালরা চাইছে, রোহিঙ্গারা যেন রাখাইনে ফিরে না যায়। তিনি মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

চলতি মাসে সাগরে নৌকাডুবিতে ৪২৭ রোহিঙ্গার মর্মান্তিক মৃত্যু: ইউএনএইচসিআর

আপডেট সময় ১০:২৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে নিরাপদ জীবনের আশায় যাত্রা করে প্রাণ হারালেন অন্তত ৪২৭ জন রোহিঙ্গা। মিয়ানমার উপকূলে দুটি পৃথক নৌকাডুবির ঘটনায় এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চলতি মে মাসের শুরুতে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর নিশ্চিত করেছে এই মর্মান্তিক খবর।

শুক্রবার (২৩ মে) রাতে ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজারের যোগাযোগ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দুটি নৌকায় মোট ৫১৪ জন রোহিঙ্গা ছিলেন। এর মধ্যে প্রথম নৌকাটি ৯ মে ডুবে যায়, যেখানে ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা করেছিলেন। বেঁচে গেছেন মাত্র ৬৬ জন। পরদিন ১০ মে দ্বিতীয় নৌকাটি ডুবে যায়, যেখানে ছিলেন ২৪৭ জন রোহিঙ্গা। সেখান থেকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে মাত্র ২১ জনকে।

আরও পড়ুন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গা মুসলমান ঢুকিয়ে এক কোটি ভোট বাড়িয়েছেন: শুভেন্দু

ইউএনএইচসিআর বলছে, এই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে প্রতি পাঁচজন যাত্রীর মধ্যে একজনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে।

এছাড়াও আরও একটি নৌকায় ১৮৮ জন রোহিঙ্গা ছিলেন, যেটিকে ১৪ মে মিয়ানমার উপকূলে আটকে দেওয়া হয়। ইউএনএইচসিআর বলছে, বর্তমানে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কার্যালয়ের পরিচালক হাই কিয়ং জুন জানান, রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সহায়তা তহবিল সংকোচনের ফলে তারা মর্যাদাসম্পন্ন জীবনের খোঁজে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় সমুদ্র এখন আরও উত্তাল, যা যাত্রাকে প্রাণঘাতী করে তুলেছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের আওতায় একটি মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি এড়াতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

২০২৫ সালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর ৩৮৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার তহবিল চাইলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা মো. জোয়ের বলেন, দালালদের মিথ্যা আশ্বাসে পড়ে রোহিঙ্গারা সাগর পাড়ি দিচ্ছেন। দালালরা চাইছে, রোহিঙ্গারা যেন রাখাইনে ফিরে না যায়। তিনি মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।