ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পল্লবীতে নিরাপত্তা প্রহরী সালাহউদ্দিন হত্যা: ঘাতক অটোরিকশা চালক গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাই পুলিশের মামলা বিসিএস ক্যাডার, প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী; এক নজরে সালাহউদ্দিন আহমদ ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে: দাবি ট্রাম্পের সংসার সুখের করতে স্বামীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ খুলনা পুলিশ লাইনে কনস্টেবলের রহস্যজনক আত্মহত্যা জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় বসছে জাতীয় কমিটি শ্রমিকদের দক্ষতা অনুযায়ী পেশা বদলের অনুমতি দিল কুয়েত সরকার অনুমতি মেলেনি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’

গা/জা/র এক-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে ই*সরা*ইল, মানচিত্র বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের আড়ালে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 215

ছবি সংগৃহীত

গাজায় চলমান হামলার আড়ালে এক ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটছে মানচিত্র বদলে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল। যুদ্ধের নামে চলছে পরিকল্পিত জমি দখল, যেখানে গাজার বড় একটি অংশ এখন সরাসরি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সামরিকভাবে ঢুকে পড়েছে এবং এসব অঞ্চলে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণার নামে সাধারণ মানুষকে জোর করে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। ঘর হারানো মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত তিন সপ্তাহেই নতুন করে গৃহহীন হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, গাজার ভেতরে ইতোমধ্যেই চারটি সামরিক করিডর স্থাপন করেছে ইসরাইল। এসব করিডরের কারণে গাজা ভৌগোলিকভাবে ভাগ হয়ে পড়ছে একাধিক খণ্ডে। এই করিডরগুলোর মধ্যে ‘মোরাগ করিডর’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, যা রাফাহ শহরকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে আশপাশের অঞ্চল থেকে। এতে করে দক্ষিণ গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষ আবার বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান-ইসরাইল সংঘাতে উত্তেজনা চরমে, ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

অন্যদিকে, ‘নেতসারিম’ ও ‘কিসুফিম’ করিডরের মাধ্যমে গাজার উত্তরাংশকে কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন গাজা আর একটি একক ভূখণ্ড নেই বরং বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত এক ভাঙা ভূখণ্ডে পরিণত হচ্ছে এই উপত্যকা।

ইসরাইলি মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, “এই অঞ্চলগুলোর বড় একটি অংশ এখন আমাদের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।”

এখন গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বসবাস নিষেধ। এর অর্থ, ধাপে ধাপে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে সরিয়ে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

এই অবস্থাকে শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, বরং জাতিগত নির্মূল ও দখলদারির এক নতুন রূপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে গাজা হয়ে উঠছে একটি মানচিত্রহীন, অধিকারহীন, নিঃস্ব জনগোষ্ঠীর নাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

গা/জা/র এক-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে ই*সরা*ইল, মানচিত্র বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের আড়ালে

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

গাজায় চলমান হামলার আড়ালে এক ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটছে মানচিত্র বদলে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল। যুদ্ধের নামে চলছে পরিকল্পিত জমি দখল, যেখানে গাজার বড় একটি অংশ এখন সরাসরি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সামরিকভাবে ঢুকে পড়েছে এবং এসব অঞ্চলে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণার নামে সাধারণ মানুষকে জোর করে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। ঘর হারানো মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত তিন সপ্তাহেই নতুন করে গৃহহীন হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, গাজার ভেতরে ইতোমধ্যেই চারটি সামরিক করিডর স্থাপন করেছে ইসরাইল। এসব করিডরের কারণে গাজা ভৌগোলিকভাবে ভাগ হয়ে পড়ছে একাধিক খণ্ডে। এই করিডরগুলোর মধ্যে ‘মোরাগ করিডর’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, যা রাফাহ শহরকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে আশপাশের অঞ্চল থেকে। এতে করে দক্ষিণ গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষ আবার বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজা সংকটে আশার বার্তা দিলেন ট্রাম্প, আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

অন্যদিকে, ‘নেতসারিম’ ও ‘কিসুফিম’ করিডরের মাধ্যমে গাজার উত্তরাংশকে কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন গাজা আর একটি একক ভূখণ্ড নেই বরং বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত এক ভাঙা ভূখণ্ডে পরিণত হচ্ছে এই উপত্যকা।

ইসরাইলি মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, “এই অঞ্চলগুলোর বড় একটি অংশ এখন আমাদের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।”

এখন গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বসবাস নিষেধ। এর অর্থ, ধাপে ধাপে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে সরিয়ে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

এই অবস্থাকে শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, বরং জাতিগত নির্মূল ও দখলদারির এক নতুন রূপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে গাজা হয়ে উঠছে একটি মানচিত্রহীন, অধিকারহীন, নিঃস্ব জনগোষ্ঠীর নাম।