ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১০, ব্যাপক লুটপাট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

 

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। হামলার সময় দোকানপাট লুটপাটের পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই তারাবা রাজ্যের কারিম লামিডো এলাকার বিনারি গ্রামে মোটরসাইকেলে করে এসে হামলা চালায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তারা সেখানে তাণ্ডব চালায়।

আরও পড়ুন  এনসিপির জনসভায় হামলা রাজনীতির জন্য ‘কালো অধ্যায়’: ইশরাক হোসেন

পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি সহায়তার ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা জানতে আশপাশের ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, তাঁরা অন্তত ২০ জনের মরদেহ গুনেছেন। অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া শাখার দাবি, নিহতের সংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে।

নাইজেরিয়ার ওই মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক ইসা সানুসি জানান, হামলায় নিহত কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে অ্যামনেস্টি। পরিবারগুলোর দাবি, এ ঘটনায় ৫০ জন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। সানুসি বলেন, প্রাথমিক জানাজায় ৩৭টি মরদেহ ছিল।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহ এএফপিকে জানান, প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা গ্রামে আসে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে আরোহী ছিলেন।

সাইফুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিভিন্ন দোকান থেকে নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। হামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাসিন্দারা যেসব মোটরসাইকেল ফেলে যান, সেগুলোও নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

বিনারি গ্রামের বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, প্রাণ বাঁচাতে মানুষ বিভিন্ন দিকে ছুটছিলেন। কিন্তু কোথায় গেলে নিরাপদ থাকা যাবে, তা কেউ বুঝতে পারছিলেন না।

আরেক বাসিন্দা সাইদু নুহু জানান, হামলার পরও কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাইজেরিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার ভিক্টর শেলিজাহ বলেন, অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে হামলাকারী বা পুলিশের কেউ হতাহত হননি বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং হামলাকারীরা স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত থাকায় তাদের শনাক্ত ও আটক করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেলিজাহ আরও জানান, আশপাশের বনাঞ্চলে তল্লাশি চলছে। সেখানে কেউ নিহত বা আহত অবস্থায় পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বিবিসিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শনিবারও ওই এলাকায় টহল অব্যাহত ছিল।

এদিকে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় দুই দশক ধরে জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলা করছে নাইজেরিয়া। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১০, ব্যাপক লুটপাট

আপডেট সময় ১২:৫১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। হামলার সময় দোকানপাট লুটপাটের পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই তারাবা রাজ্যের কারিম লামিডো এলাকার বিনারি গ্রামে মোটরসাইকেলে করে এসে হামলা চালায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তারা সেখানে তাণ্ডব চালায়।

আরও পড়ুন  গাজায় ই/স/রা/য়ে/লি স্নাইপার হামলায় সাংবাদিক সাঈদ আবু নাভহান নি'হত

পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি সহায়তার ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা জানতে আশপাশের ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, তাঁরা অন্তত ২০ জনের মরদেহ গুনেছেন। অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া শাখার দাবি, নিহতের সংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে।

নাইজেরিয়ার ওই মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক ইসা সানুসি জানান, হামলায় নিহত কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে অ্যামনেস্টি। পরিবারগুলোর দাবি, এ ঘটনায় ৫০ জন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। সানুসি বলেন, প্রাথমিক জানাজায় ৩৭টি মরদেহ ছিল।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহ এএফপিকে জানান, প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা গ্রামে আসে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে আরোহী ছিলেন।

সাইফুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিভিন্ন দোকান থেকে নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। হামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাসিন্দারা যেসব মোটরসাইকেল ফেলে যান, সেগুলোও নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

বিনারি গ্রামের বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, প্রাণ বাঁচাতে মানুষ বিভিন্ন দিকে ছুটছিলেন। কিন্তু কোথায় গেলে নিরাপদ থাকা যাবে, তা কেউ বুঝতে পারছিলেন না।

আরেক বাসিন্দা সাইদু নুহু জানান, হামলার পরও কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাইজেরিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার ভিক্টর শেলিজাহ বলেন, অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে হামলাকারী বা পুলিশের কেউ হতাহত হননি বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং হামলাকারীরা স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত থাকায় তাদের শনাক্ত ও আটক করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেলিজাহ আরও জানান, আশপাশের বনাঞ্চলে তল্লাশি চলছে। সেখানে কেউ নিহত বা আহত অবস্থায় পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বিবিসিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শনিবারও ওই এলাকায় টহল অব্যাহত ছিল।

এদিকে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় দুই দশক ধরে জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলা করছে নাইজেরিয়া। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে।